advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টাকার ভাগ পেতেন অনেকেই

হাবিব রহমান
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:২৮
advertisement

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বেই রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, বনানীসহ বিভিন্ন স্পটে চলত ক্যাসিনো কারবার। এসব ক্যাসিনো থেকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা আয় করতেন যুবলীগের এই নেতা।

রাজধানীর ক্যাসিনো কারবার নিয়ে খালেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এমন কিছু ব্যক্তির নাম বলেছেন, যারা সমাজে খুবই প্রভাবশালী। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী সে সব ব্যক্তি সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু করেছে র‌্যাব। গতকাল রাত থেকেই র‌্যাব তাদের কারও কারও ওপর নজরদারি রাখতে শুরু করেছে। তবে কৌশলগত কারণে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেলে নজরদারি রাখা ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

দেশে প্রচলিত আইনানুযায়ী, ক্যাসিনো বা জুয়া খেলা অবৈধ হলেও প্রকাশ্যেই এ কারবার চলে আসছিল। এমনকি রাজধানীর দুটি থানার নাকের ডগাতেই রমরমা ক্যাসিনো বাণিজ্য চলত। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কখনই অভিযানে নামেনি প্রশাসন। কারণ অধিকাংশ ক্যাসিনোর মালিক ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। গতকাল খালেদকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্য সব কুশীলব এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

খালেদকে গতকাল গ্রেপ্তার করার পর রাজধানীতে ক্যাসিনো কারবার এবং এতে কোটি কোটি টাকা ওড়ার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। প্রশ্ন জেগেছে, কারা এ কারবার থেকে মোটা টাকা ভাগ পেতেন, সেটিও।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো বাণিজ্যের টাকার ভাগ পুলিশসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে প্যাকেট করে পাঠানো হতো দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে। অভিযোগ আছে, যুবলীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এ টাকার ভাগ পেতেন। এ কারণেই রাজধানীতে দিনের পর দিন ক্যাসিনোর কারবার বিস্তার লাভ করে। একাধিক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর পল্টন থানার উল্টো পাশের জামান টাওয়ারে কয়েক বছর আগে ক্যাসিনো বাণিজ্য শুরু হয়। এর পর ধাপে ধাপে আরামবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠে একের পর এক ক্যাসিনো। অভিযোগ রয়েছে, শুরু থেকেই প্রশাসন এ বিষয়ে ছিল নীরব। ক্যাসিনো বাণিজ্য থেকে যে টাকা আয় হতো, তার একটি অংশ দেশের বাইরেও পাচার হয়ে আসছিল বলে একাধিক সূত্রের খবর।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম আমাদের সময়কে বলেন, রাজধানীর ক্যাসিনোগুলোর বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীরা প্রভাবশালী হলেও ছাড় দেওয়া হবে না।

 

advertisement