advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মাদকাসক্ত চালক ধরতে ১ ডিসেম্বর থেকে ডোপ টেস্ট

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:০৫
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:০৫
advertisement

কোনো চালকের প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষায় মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেলে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করার পাশাপাশি তাকে সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো হবে কারাগারে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে বসবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব আদালত চালকদের ডোপ টেস্ট করবে।
গতকাল বুধবার ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যৌথসভা শেষে এ তথ্য জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। সভায় ঢাকার ৪টি বাস টার্মিনালের মালিক-শ্রমিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেন। এ ছাড়া সাধারন বাসমালিক ও

শ্রমিকরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আলোচিত বিষয়বস্তুর বরাত দিয়ে খন্দকার এনায়েত উল্যাহ জানান, রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডোপ টেস্ট চালু করা হবে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এ অভিযানে সহায়তা করবে। এ সময় মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।
ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, দুটি কারণে ঢাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে মাদকাসক্তি। ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ চালকই মাদকাসক্ত। তারা যানজটে স্থবির সড়কেও দুর্ঘটনা ঘটায় দুই লেনের রাস্তাকে চার লেন দেখে বলে। দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, চুক্তিতে বাস চালনা। এ দুটি সমস্যার উত্তরণে মালিকরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, দুই সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে আলোচনা করেছে।
চুক্তিতে বাস চালানো বন্ধে ঢাকায় কাউন্টার সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত হয় যৌথসভায়। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে বছিলা-মতিঝিল ও মিরপুর-মতিঝিল রুটে কাউন্টার চালু হবে। খন্দকার এনায়েত এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, বর্তমানে এ দুই রুটে যেসব স্টপেজ নির্ধারণ করা রয়েছে, তা অযৌক্তিক। যেখানে বাস থামানোর জন্য বে নির্মাণের জায়গা রয়েছে, সেখানে স্টপেজ করা হবে। যাত্রী ওঠানামায় বাস যত্রতত্র থামবে না। বাস বে-তে দাঁড়াবে। স্টপেজ হয়ে ১০টি কোম্পানির বাস চললেও একটি কাউন্টার থেকে সব কোম্পানির টিকিট বিক্রি হবে। বে নির্মাণের জায়গা নির্ধারণে দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কাউন্টার ছাড়া কোথাও বাসের দরজা খোলা থাকবে না। এ পদ্ধতি চালু হলে চুক্তিতে বাস চালানো বন্ধ হয়ে যাবে, বলেন তিনি।
যৌথসভায় সাধারণ চালকরা বলেন, চুক্তিতে বাস চালনা করায় তারা সব সময় টার্গেট পূরণ করার চাপে থাকেন। বলাকা পরিবহনের চালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, একটি বাসে দৈনিক খরচ ৯ হাজার টাকা। এ টাকা আয়ের পর যা থাকে, তা চালক-হেলপার পান। টাকা তোলার চাপের কারণে হুড়াহুড়ি করে বাস চালাতে হয় চালকদের; যাত্রী ধরতে করতে হয় বিপজ্জনক ওভারটেকিং।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু বলেন, পরিবহনে নৈরাজ্যের মূলে রয়েছে চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে শৃঙ্খলা আসবে না। এর জবাবে খন্দকার এনায়েত বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে তিনি সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খানের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাস্তাঘাটে বৈধ, অবৈধ সব রকমের চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। সমিতির টাকা মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি হিসেবে নেওয়া হবে। রাস্তায় টাকা তোলা বন্ধ করা হবে।
যৌথসভায় আরও আলোচনা করেন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আজমল উদ্দিন সবুর, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম, মহাখালী টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি হাজি আবুল কালাম প্রমুখ।

advertisement