advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বঙ্গবন্ধুর খুনি নূরকে ফেরাতে বড় আইনি অগ্রগতি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে খুন করেছিল একদল বিপথগামী সেনাসদস্য। তাদেরই একজন নূর চৌধুরী। দেশের আইনে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত এই আত্মস্বীকৃত খুনি বর্তমানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন কানাডায়। তাকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ নানা রকম কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও নূর চৌধুরীর বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল অটোয়া। অবশেষে এ নিয়ে কানাডা সরকারের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে বাংলাদেশ বড় সাফল্য লাভ করেছে। এই আইনি লড়াইয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর ফেডারেল কোর্ট অব কানাডা বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাতে অভিবাসী হিসেবে আশ্রয়ে থাকা নূর চৌধুরীর গতিবিধি সম্পর্কিত

তথ্য প্রকাশ না করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কানাডা সরকার, তা পুনর্নিরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। দ্য কানাডিয়ান প্রেসের বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার দ্য ভ্যাঙ্কুভার সান এই খবর প্রকাশ করেছে।

রায়ে ফেডারেল কোর্ট অব কানাডার বিচারক জেমস ডব্লিউ ওরেইলি বলেছেন, নূর চৌধুরীর অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে জনস্বার্থের ব্যাঘাত ঘটবে না। তাই তার বিষয়ে বাংলাদেশকে তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কানাডা সরকারকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

কানাডার গণমাধ্যম দ্য স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, নূর চৌধুরী ও তার স্ত্রী ১৯৯৬ সালে কানাডা যাওয়ার পর হঠাৎ করেই অভিবাসী হিসেবে সে দেশে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। তার দুই বছরের মাথায় নিম্নআদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ে অন্যান্য খুনির সঙ্গে নূর চৌধুরীকেও মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। ফলে গুরুতর অপরাধে সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকায় ২০০২ সালে কানাডা নূর চৌধুরী দম্পতির আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। আপিল করেও ২০০৬ সালে তারা হেরে যান। কিন্তু তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়নি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দ-িত পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তবে এখনো পলাতক আছে নূর চৌধুরীসহ মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি খন্দকার আবদুর রশিদ, এএম রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান। এর মধ্যে নূর কানাডায় ও রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন বলে জানা গেলেও বাকিদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। বিচারের রায় ঘোষণার পর নূর চৌধুরী বহিষ্কার বা প্রত্যর্পণ এড়াতে কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে ‘প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’-এর আবেদন করেন। কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়বে কিনা তা বুঝতে ‘প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ করা হয়। তাকে ফেরানোর চেষ্টায় থাকা বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে একটি চিঠি দিয়ে জানতে চায় নূর চৌধুরী কানাডায় কীভাবে আছেন। তার ‘প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের’ আবেদন কোন পর্যায়ে আছে। তবে কানাডা সেসব তথ্য দিতে অস্বীকার করলে গত বছর জুন মাসে ‘জুডিশিয়াল রিভিউয়ের’ আবেদন করে বাংলাদেশ।

এদিকে এ রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরত আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমরা এতদিন জানতে চাচ্ছিলাম কানাডায় বঙ্গবব্ধুর খুনি নূর চৌধুরী কীভাবে কোন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছে। এই রায়ের মাধ্যমে সেটির জানার পথ উন্মুক্ত হলো। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরত আনার পথ উন্মোচিত হলো।

advertisement