advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

কেটে নেওয়া হলো যুবকের দুই হাতের কব্জি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

একটি ফেরিঘাট নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবকের দুই হাতের কব্জি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। রুবেল হোসেন (২৮) নামে ওই যুবককে আহতাবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আলাউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর নামের দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত রুবেলের স্বজনদের অভিযোগ, পদ্মা নদীর একটি ফেরিঘাটের চাঁদাবাজি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে উজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন ও তার ক্যাডাররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। রুবেল উপজেলার রানিহাটি বাজার এলাকার মৃত খোদাবক্সের ছেলে।

তবে এ ব্যাপারে উজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক চিকিৎসক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ওই যুবককে বুধবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার দুই হাতের কব্জি কাটা, শরীর থেকে বিছিন্ন অবস্থায় আনা হয়েছে। তা আর জোড়া

লাগানো সম্ভব নয়। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

রুবেলের চাচাতো ভাই ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সালাম বলেন, বুধবার রাতে রুবেল ও তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিল। পথে উজিরপুর বেড়িবাঁধের কাছে আসার সময় কয়েকজন তাদের পথ রোধ করে ও চেয়ারম্যান ফয়েজের সঙ্গে দেখা করতে বলে। রুবেল তার বন্ধুদের নিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে গেলে, তার দুই বন্ধুকে ঘরে আটকে রাখে। এ সময় রুবেলের মুখ ও চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে নদীর বাঁধের নিচে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্যাতন করে দুই হাতের কব্জি কেটে ফেলে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে রাত প্রায় ১টার দিকে উদ্ধার করে। আহত রুবেলকে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফয়েজ চেয়ারম্যান পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এমনটি করেছে উল্লেখ করে সালাম আরও বলেন, উজিরপুর ফেরিঘাট নিয়ে কিছু দিন থেকে চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়। চেয়ারম্যান ফেরিঘাটটি পুরো তার নিয়ন্ত্রণে আনতে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি আতিক হোসেন জানান, দুপুর থেকে ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযান চলছে। জড়িতদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে রাতেই সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশের একটি দল অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

advertisement