advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফেরত নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:৪১
advertisement

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি ‘বড় বোঝা’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে ইউকে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) দুটি পৃথক প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। কারণ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও

একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সে সময় এক কোটি বাংলাদেশি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। এখন রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এদের কারণে স্থানীয় মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মানবিক কারণে ভোগান্তি মেনে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সফররত ইউকে কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ (সিএফওবি) ও ইউকে এপিপিজি অন পপুলেশন, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ইউকে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) সভাপতি অ্যানি মেইন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ইউকে এপিপিজি দলের সদস্যরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের সফরের ওপর লেখা একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আবারও প্রতিশ্রুতি দেন। দুই বছর আগে বাংলাদেশে তাদের সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, সেই সময়ের তুলনায় এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ অনেক ভালো হয়েছে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটেন বাংলাদেশের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও গভীর থেকে গভীরতর হবে।
জাতিসংঘ অধিবেশন প্রধানমন্ত্রী আজ নিউইয়র্ক রওনা হচ্ছেন
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ৩টা ২৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ করা কথা রয়েছে। আগামী রবিবার তিনি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। প্রতিবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন।
সূত্র জানায়, জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজের মাল্টি স্টেকহোল্ডার প্যানেলে অংশ নেবেন এবং উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য রাখবেন। পরদিন তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও ওআইসি সচিবালয় আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভা এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রদত্ত অভ্যর্থনায়ও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি এসডিজি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ফোরামে অংশ নেবেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এবার নিউইয়র্ক সফরে দুটি সম্মাননা পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) তাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত করবে। আর জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফ ২৬ সেপ্টেম্বর ‘অ্যান ইভনিং টু অনার হার এক্সিলেন্সি প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, গত দুবারের মতো আসন্ন অধিবেশনেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা পেশ করতে পারেন।

advertisement