advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এরশাদের আসনে উপনির্বাচন, আগ্রহ নেই ভোটারদের

নজরুল মৃধা রংপুর
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৮:৩৩
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না ভোটারদের। প্রতীক পেয়ে প্রার্থীরা মাঠে নামলেও খুব একটা সাড়া পাচ্ছেন না তারা। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার, প্রার্থী নির্ধারণে জাতীয় পার্টির একাংশের নিষ্ক্রিয়তা, বিএনপি বহিরাগত প্রার্থী দেওয়ায় এবং ভোটের দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা হওয়াসহ বেশকিছু কারণে ভোটাররা আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে জানা গেছে। বৃৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে অনাগ্রহের বিষয়টিও দেখা গেছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের ধারণা যারা ভোটকেন্দ্রে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না তাদের কেন্দ্রমুখী করতে না পারলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এবার ভোটের হার কমতে পারে।

মাঠ পর্যায়ের নৌকা সমর্থক ও তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিমত জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দেওয়ায় হতাশ হয়েছেন তারা। শেষ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে যাবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, তারা আশা করেছিলেন এবার এ আসনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নৌকা ছাড়া অন্য প্রতীকে ভোট দিতে নারাজ। এ অবস্থায় দলটির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে নাও যেতে পারেন।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল বলেন, বিষয়টি তেমন না। আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন। তবে দল ও জোটের স্বার্থে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির মহানগর সভাপতি এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নিজেকে এই নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে তার অনুসারীরা অনেকটা হাত গুটিয়ে বসে আছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে পছন্দের প্রার্থী না পাওয়ায় জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মীই ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এখানে এরশাদের ছোট ভাইয়ের ছেলে সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বর্তমানে আসিফ শাহরিয়ার দলে না থাকলেও দলের একটি অংশের নীরব সমর্থন রয়েছে তার প্রতি।

মহানগর জাপার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এ প্রসঙ্গে বলেন, দলের সিদ্ধান্তে সাদকে প্রার্থী করা হয়েছে। এখানে আমার করার কিছু নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি নির্বাচন থেকে দূরে থাকার।

বিএনপি রিটা রহমানকে মনোনয়ন দিলেও নির্বাচনে তার পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামেননি। বিএনপির নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল এবার স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু তা না করে বহিরাগত রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে অখুশি দলের নেতাকর্মীরা। ফলে অনেকেই নির্বাচনের দিন হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন, এমনটাই ভাবছেন দলের অনেক নেতাকর্মী।

তবে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেকের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে ঠিকই। তবে আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

এদিকে ভোটের দিন সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা। ভোট পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে তারা মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ভোট পেছানোর পক্ষে নয়। তাই এ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে রয়েছে ক্ষোভ। ক্ষোভ ও ধর্মীয় কারণে ওই দিন তারা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে বলে অনেকই মনে করছেন ।

হিন্দু ধর্মীয় নেতা সুশান্ত ভৌমিক বলেন, আমরা ভোট পেছানোর দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু ভোট পেছানোর কোনো লক্ষণ দেখছি না। ফলে অনেকে ধর্মীয় অনুভূতির কারণে ভোটকেন্দ্রে নাও যেতে পারেন।

এদিকে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর সদর আসনে ভোট পড়ে ৫২ শতাংশ। ভোটগ্রহণ হয়েছিল ইভিএম পদ্ধতিতে। ভোটদানে বিরত ছিল ৪৮ শতাংশ ভোটার। এবার আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাংশ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যদি ভোট প্রদানে বিরত থাকেন তা হলে একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে অনেক কম ভোট কাস্ট হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

advertisement