advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জলঢাকার আলোর কণা

রেজাউল করিম রঞ্জু নীলফামারী
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৮
advertisement

নীলফামারীতে আলো ছড়াচ্ছে ‘আলোর কণা ফ্রি পাঠদানকেন্দ্র’। জেলা শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে জলঢাকা সদরের দুন্দিবাড়ি এলাকায় পাঠশালাটি যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। মাত্র ৫ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হলেও এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের শিক্ষক জলঢাকা সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি ও ¯œাতক পর্যায়ের সাত শিক্ষার্থী। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদানে বিভিন্ন সময় কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, হাতের সুন্দর লেখা ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিজয়ীদের দেওয়া হয় পুরস্কার। পালন করা হয় বিভিন্ন জাতীয় দিবস।

টিনের দোচালা ও বাঁশের বেড়ায় তৈরি পাঠশালাটিতে রয়েছে একটি গ্রন্থাগার ও সততা স্টোর। পাঠদানে নিয়োজিত জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী আতিকা আকতার বলেন, সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাঠদান চলে এখানে। ঘরের ভেতরে চটে বসে চলে পাঠদান। কখনো কখনো বাইরেও পাঠদান চলে দলবদ্ধভাবে।

আলোর কণা সূত্র জানায়, শুধু জলঢাকা শহরের দুন্দিবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া এলাকাতেই নয়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে এ রকম আরও ১০টি ফ্রি পাঠদানকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিকেন্দ্রে অন্তত ১০০ জনকে পড়ানো হয়।

আলোর কণার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সাকিব হোসেন জানায়, সকালে এখানে এসে পড়া শেষ করে বাড়ি ফিরে যায়। গোসল ও খাওয়া শেষে আবার স্কুলে আসে। এখানে এসে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ বেড়েছে। প্রতিযোগিতাতেও অংশ নেয় সে।

জলঢাকা ডিগ্রি কলেজের ¯œাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফুয়াদ হোসেন, হিরণ রায় ও লিওন ইসলামের উদ্যোগে ২০১৫ সালে আলোর কণা ফ্রি পাঠদানকেন্দ্রটি চালু করা হয়। ফুয়াদ হোসেন বলেন, আমরা সাত ভাইবোন। বাবা ছোট ব্যবসা করেন। অর্থাভাবে সবাই পড়াশোনা করতে পারেননি। ২০১২ সালে এসএসসি পাস করার পর এ রকম একটি কেন্দ্র চালু করার প্রয়োজনীতা অনুভব করি। পরে ২০১৫ সালে তিন বন্ধু মিলে এটি শুরু করি। এখন ভালো সাড়া পাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা পড়াচ্ছি শিশুদের। কিন্তু নিজেদের শিক্ষক মনে করি না। শিক্ষার্থীদের আমাদের ভাইয়া বলে সম্বোধন করতে বলেছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল ভৌমিক জানান, এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। গোটা দেশের জন্য এটি অনুকরণীয় হতে পারে। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

advertisement