advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোহিঙ্গা এনআইডি প্রদান : টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়েই তথ্য ফাঁস

হামিদ উল্লাহ,চট্টগ্রাম
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:৩৮ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:২১
advertisement

টাকার ভাগবাটোয়ারা এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণেই মূলত রোহিঙ্গাদের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। অথচ তিন বছর ধরে তা নিয়মিতই চলে আসছিল। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী জয়নাল আবেদীনকে তার প্রতিপক্ষ একটি চক্র ফাঁসাতে গিয়েই পুরো বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।

রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এসআইডি) সার্ভারে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার জয়নাল রিমান্ডের প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে এসব কথা বলেছেন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। তবে জয়নাল যেসব তথ্য দিয়েছেন তার সবটাই সত্য বলে মনে করছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, প্রয়োজন হলে আরও কিছু লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের চট্টগ্রাম নগর শাখার উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, জয়নালের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে শুক্রবার বেলা ১১টায় আমরা গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করব।

জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে মূলত জয়নাল, মোস্তফা ফারুক ও আবুল খায়ের রোহিঙ্গাদের এনআইডি সার্ভারে প্রবেশের কাজটি করতেন। এর মধ্যে মোস্তফা ও খায়ের এই কাজ করতেন স্থানীয় কর্মকর্তাদের সহযোগিতায়। আর জয়নাল ঢাকার সাগরের মাধ্যমে সরাসরি করতেন। বিষয়টি অন্য দুজনের পছন্দ হয়নি। তাই রোহিঙ্গা এনআইডি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে তারাই কৌশলে জয়নালকে ফাঁসিয়ে দেন।

জয়নাল কেবল ছবি তোলা আর ফরম পূরণসহ প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ঢাকায় পাঠাতেন। কারণ সার্ভারে প্রবেশ করানোর জন্য পাসওয়ার্ড এবং মডেম ছিল সাগরের কাছে। কিন্তু মোস্তফা ও খায়ের চট্টগ্রাম থেকেই মডেম ব্যবহার করে এই কাজ করতেন। এভাবে জয়নাল ঢাকায় সরাসরি কাজ করার কারণে তার আয় বেশি হতো বলে মনে করতেন মোস্তফা আর খায়ের। তারা ওই টাকার ভাগ চান, যা দিতে অস্বীকার করেন জয়নাল।

এদিকে জয়নাল গ্রামে পাঁচতলা ভবন নির্মাণকাজ শুরু করায় তার সম্পদও দৃশ্যমান হতে থাকে। এ নিয়ে অন্যদের সঙ্গে জয়নালের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তখন জয়নালকে ফাঁসাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেন মোস্তফা ও খায়ের। এর মধ্যে হাটহাজারীর ঠিকানায় রোহিঙ্গা তরুণী লাকী আক্তার ধরা পড়ার পর জয়নাল সতর্ক হয়ে যান। তার কাছে প্রায় চার হাজার রোহিঙ্গার এনআইডি সার্ভারে অন্তর্ভুক্তির কাগজপত্র ছিল। সম্ভাব্য বিপদের কথা ভেবে তিনি সব কাগজ পুড়িয়ে ফেলেন।

জয়নাল আরও জানান, একজন রোহিঙ্গাকে এনআইডি সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করতে মোট ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও তিনি পেতেন ৭ হাজার টাকা। ঢাকায় সাগর পেতেন ২ হাজার। অবশিষ্ট টাকা দালালরা নিত। পুলিশের কাছে এই তথ্যও সঠিক বলে মনে হয়নি। তবে জয়নাল একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেটা হলো, উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছেই থাকে এনআইডি সার্ভারের মডেম। কাজেই তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ করা অসম্ভব। পুলিশ এই তথ্যটি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তবে রিমান্ডে থাকা অপর দুজন বিজয় দাশ ও সুমাইয়ার কাছ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

advertisement