advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কমিটি গঠনের অনিয়ম ধরতে বিএনপির টিম

নজরুল ইসলাম
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৮:৫৯
advertisement

বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনে অনিয়ম ধরতে প্রতিটি সংগঠনের জন্য বিশেষ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) তৃণমূলের কমিটি গঠনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা সরেজমিনে দেখতে বিএনপির নেতাদের নেতৃত্বে একাধিক টিম করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম করেছেন তারা। আজকালের মধ্যেই তাঁতী দলের একটি টিম উত্তরাঞ্চল সফর করবে। তবে অপেক্ষাকৃত নিষ্ক্রিয় ও জুনিয়রদের সমন্বয়ে বিশেষ এ টিম গঠন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মতো বিএনপির তৃণমূলের কমিটি তদারকি করতেও একাধিক টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জেলা ও মহানগর কমিটি করা হচ্ছে। বেশকিছু জেলা কমিটি হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের পছন্দ-অপছন্দ থাকা, নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব, প্রভাবশালী নেতাদের পদ আঁকড়ে থাকার মনোভাবসহ নানা কারণে অনেক জায়গায় কমিটি করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে দলের হাইকমান্ডও বেশ বেকায়দায়। তবে কাউন্সিল ছাড়া কোনো কমিটি হলে তা বাতিল করে সেখানে প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন কমিটি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গঠিত কেন্দ্রীয় টিমকে সরেজমিনে সাতটি বিষয় দেখতে বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- প্রত্যেক এলাকায় গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে কমিটি করতে হবে। এ পর্যন্ত গঠিত কমিটিগুলো কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে হয়েছে কিনা তা যাচাই করে কেন্দ্রকে জানাতে হবে। রাজনীতিতে সক্রিয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কমিটির প্রধান নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই এলাকায় বসবাসকারী হতে হবে। কমিটির আহ্বায়ক কাউন্সিলে প্রার্থী হতে পারবেন না। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য কমিটি করতে হবে। সময়ক্ষেপণ না করে সব পর্যায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠনতান্ত্রিকভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম তদারক করতে হবে।

জানতে চাইলে গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, শত বাধার মধ্যেও প্রত্যক্ষ ভোটে ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত সামনেও একইভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সব কমিটি হবে। এর বাইরে আমাদের অন্য কোনো চিন্তা নেই।

একটি টিমের গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, সরেজমিনে গিয়ে আমরা যা পাব তা প্রতিবেদন আকারে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কমিটি গঠন যারা বাধাগ্রস্ত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হবে।

বিএনপির এক নেতা জানান, চূড়ান্ত গঠনতন্ত্র না থাকায় ছাত্রদলের কাউন্সিল করতে গিয়ে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। এ অবস্থায় ছাত্রদলসহ প্রতিটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধনের চিন্তা করছে দলের হাইকমান্ড। এরই মধ্যে ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র কীভাবে হালনাগাদ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের চিন্তা করতে বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, বেশিরভাগ জেলা-মহানগরে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পকেট কমিটি হয়েছে। যাদের নেতা বানানো হয়েছে তাদের অনেকেই জেলায় না থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে অনেক প্রভাবশালী নেতার অনুসারীদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এক নেতা জানান, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ নিজের মতো করে সংগঠন চালান। সংগঠনের কোনো গঠনতন্ত্রও নেই। তিনি নিজে সভাপতি হতে চান। যদিও আহ্বায়ক হিসেবে তিনি সভাপতি প্রার্থী হতে পারবেন না। মৎস্যজীবী দলের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। এ দুই সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ পার হলেও কবে কাউন্সিল হবে তা কেউ জানে না।

কৃষকদলের এক নেতা জানান, কৃষকদলের নভেম্বরে কাউন্সিল হওয়ার কথা। এক গ্রুপ চাচ্ছে কৃষকদলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুকে সভাপতি করতে। আরেক গ্রুপ চাচ্ছে সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি করতে। তবে তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত, কমিটি হবে প্রত্যক্ষ ভোটে। কোনো আহ্বায়ক কাউন্সিলে প্রার্থী হতে পারবেন না।

জানা গেছে, গ্রুপিংয়ের কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিসহ অঙ্গ-সংগঠনগুলো নামমাত্র কর্মকা-ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা শাখার মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩৭টিতে নতুন কমিটি হলেও বেশকিছু কমিটির নেতাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মাদারীপুর জেলা কমিটি চাপিয়ে দেওয়ায় সেখানকার নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। রাজশাহী ও পাবনা জেলা কমিটির কয়েক নেতাকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নেত্রকোনায় নিষ্ক্রিয়দের দিয়ে কমিটি হয়েছে। ত্যাগীদের বাদ দেওয়ায় গোপালগঞ্জেও নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এসব কমিটির অধীনে বিভিন্ন থানা কমিটি গঠন নিয়েও শুরু হয়েছে ক্ষোভ। নওগাঁ ও মানিকগঞ্জে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়েছেন এসব এলাকার নেতারা। ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জে দ্বন্দ্বের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে এসব এলাকায় বিএনপির কার্যক্রম। বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলা কমিটি গঠনে মূল বাধা কেন্দ্রীয় নেতারা। বরিশালের এক নেতা বলেন, সিনিয়র নেতাদের কারণে বরিশালের কোনো জেলায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। মনে হচ্ছে, ওই সিনিয়র নেতাদের কাছে দলের হাইকমান্ডও অসহায়। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের কাউন্সিলের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মনোভাব দৃঢ় হয়েছে। যত বাধাই আসুক, কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি নেতা নির্বাচন করবেন। পর্যায়ক্রমে অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি করা হবে। তবে যুবদলের বিষয়ে দুই ধরনের চিন্তা রয়েছেÑ বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা বা আহ্বায়ক কমিটি করা। বিএনপির একটি অংশ চাচ্ছে- অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমানে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আছেন, তাদের বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে নেওয়া উচিত। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ দুই পদে নতুন নেতা নির্বাচনের পক্ষে তারা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহান আমাদের সময়কে বলেন, সংগঠনকে গতিশীল ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন- তা সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের সবার উচিত এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।

advertisement