advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পেঁয়াজের দাম কমেনি তিন দিনেও

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৮:৪৯
advertisement

পেঁয়াজের দাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন সরকারের কর্মকর্তারা। সেই ২৪ ঘণ্টার পর পেরিয়ে গেছে তিন দিন। এখনো সরকারের কথার কোনো প্রভাব পড়েনি পেঁয়াজের বাজারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের সরবরাহ কম। নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে পেঁয়াজের এমন ঝাঁজে দিশাহারা সাধারণ ক্রেতারা।

রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে আসা আলতাফ হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে হচ্ছেটা কী! মাছ, মাংস, সবজির পর এখন পেঁয়াজ রসুনের দামেও আগুন। দুদিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম এক লাফে বেড়ে দ্বিগুণ। এটা কী মগের মুল্লুক! পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হয়, বলুন! আর সেই পেঁয়াজের দাম নিয়ে ডাকাতি। উসিলা পাইলেই হয়, দাম বাড়িয়ে বসে থাকে। আর কতদিন এভাবে জিম্মি হয়ে থাকতে হবে আমাদের।

গতকাল শুক্রবার কারওয়ানবাজার, শান্তিনগর, মালিবাগসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। একটু ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাজারে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আড়তে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত পেঁয়াজের দামও অনেক বেড়ে গেছে। সব মিলিয়েই দাম অনেক বাড়তি।

হঠাৎ অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার থেকে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশ (টিসিবি)। একই সঙ্গে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই দিন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বিরুনি ঘোষণা দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমবে। ক্রেতাদের আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দেন তারা।

এদিকে শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ছোট আকারের প্রতি পিস বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। অন্যান্য সবজিরও দাম চড়া। লাউ, টমেটো, করলা, গাজর, ঝিঙে, বরবটি, বেগুন, পটোল, ঢেঁড়স, উসি, ধুন্দুলসহ সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে আগের মতো বাড়তি দামে। ছোট আকারের লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস। পাকা টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, গাজর ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া চিচিংগা, ঝিঙা, ধুনদল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।

তবে পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া ও কাঁকরোলের দাম কিছুটা কমেছে। বাজারভেদে কাঁকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি ও মিষ্টিকুমড়ার ফালি পাওয়া যাচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ রাসেল বলেন, বাজারে প্রতিদিনই শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ছে। শীত মৌসুমের সবজিতে বাজার ভরে গেলেই সবজির দাম কমে যাবে। স্বাভাবিক হয়ে আসবে অন্যান্য সবজির দামও।

হিলি স্থলবন্দরে আবারও বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

হিলি প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ আবারও বেড়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৯ থেকে ১২ টাকা।

মূল্যবৃদ্ধি রুখতে ও কারসাজি করে কেউ যেন পেঁয়াজের দাম বাড়াতে না পারে সে ব্যাপারে আমদানিকারকদের নিয়ে বৈঠক করে উপজেলা প্রশাসন। এতে করেও পেঁয়াজের দাম কমছে না। এর মধ্যে দুদিনের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৯ থেকে ১২ টাকা। খোলা বাজারে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে পেঁয়াজ কিনবে টিসিবি। এরই ধারাবাহিকতায় হিলিতে টিসিবিকে পেঁয়াজ দিতে শিডিউল ড্রপ করছে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

ভারতীয় কৃষিপণ্য মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ‘ন্যপেড’ গত ১৩ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে পেঁয়াজের রফতানি মূল্য সাড়ে ৩শ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে।

এদিকে গত বুধবার হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে যে পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে, বৃহস্পতিবার ওই পেঁয়াজই পাইকারি বাজারে বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে।

গত রবিবার বিভিন্ন ব্যাংকে পুরনো এলসিগুলো আবার অ্যামেনমেন্ড এবং নতুন করে এলসি করে পেঁয়াজ আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের গত ৬ কর্ম দিবসে ভারতীয় ৮৮ ট্রাকে ১ হাজার ৯০৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। তবে গেল সপ্তাহে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ২ হাজার ৪২২ টন।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গত বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে হিলি স্থলবন্দরের সকল পেঁয়াজ আমদানিকারকগণে সঙ্গে হাকিমপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তৌহিদুর রহমান বৈঠকে করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-উর রশীদ, হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সহ-সভাপতি শহিদ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম, বাবলুর রহমানসহ অনেকে।

এদিকে ভারত সরকার পেঁয়াজের রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার প্রভাব পড়েছে দেশীয় খোলা বাজারে। খোলা বাজারে দাম স্বাভাবিক রাখতে দেশের চারটি স্থলবন্দর থেকে আমদানিকারকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনবে টিসিবি। এরই ধারাবাহিকতায় হিলিতে টিসিবিকে পেঁয়াজ দিতে শিডিউল ড্রপ করছে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

গত বৃহস্পতিবার সকালে খান ট্রেডার্স, সততা বাণিজ্যলয় ও সিপিং লাইন নামে ৩টি প্রতিষ্ঠান শিডিউল ড্রপ করে।

রংপুর টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুজাউদ্দৌলা সরকার বলেন, দেশের চারটি স্থলবন্দর থেকে একযোগে দরপত্র আহব্বান করা হয়েছে। যে বন্দরের আমদানিকারকরা কম দামে টিসিবিকে পেঁয়াজ দিতে পারবেন, তাদের থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করা হবে। তিনি আরও জানান, হিলি স্থলবন্দর থেকে ৩টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিডিউল ড্রপ করেছেন। আমরা সেগুলো আমাদের ঢাকা অফিসে পাঠিয়েছি। কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনতে হবে সেটা আমরা পরে জানাতে পারব।

এদিকে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, আমরা সরকারকে কম দামে পেঁয়াজ দিতে শিডিউল ড্রপ করেছি। আশা করছি আমাদের কাছ থেকেই পেঁয়াজ কিনবে টিসিবি।

advertisement