advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অস্ত্রপচারের সময় পেটে কাঁচি রেখে সেলাই!

বরিশাল প্রতিনিধি
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৩:১৩ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৩:১৩
বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগি মৃত্যুর ঘটনায় ভাঙচুর করেছে স্বজনরা। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভাংচুর করেছে স্বজনরা। চিকিৎসকদের খুঁজে না পেয়ে নার্সদের কক্ষেও কাগজপত্র নষ্ট করে দিয়েছেন তারা।

আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী শেবাচিমের তৃতীয় ও পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মৃতার নাম সুলতানা বেগম (৩২)। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার বাসিন্দা বশির খানের স্ত্রী। কিছুদিন আগে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন তিনি।

মৃত রোগীর স্বজন আব্দুল আজিজ এবং জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত ২৭ আগস্ট বরিশাল হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন সুলতানা। বাড়ি ফেরার চার-পাঁচ দিনের মাথায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এজন্য তাকে স্থানীয় রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়, সিজারের সময় তার পেটে কাঁচি রেখেই চিকিৎসকরা সেলাই করে দিয়েছিলেন। পরে আবার তার অস্ত্রপচারের জন্য গত রোববার রেড ক্রিসেন্ট থেকে শেবাচিম হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ইউনিটে (৩) ভর্তি করা হয়।

তারা বলেন, বৃহস্পতিবারও সুলতানা সুস্থ ছিল। হাটা-চলাও করেছে একা একা। তার মধ্যে হঠাৎ করেই শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, বারবার বলা হলেও চিকিৎসক ও সেবিকারা সুলতানার যথাযথ খোঁজ-খবর নেয়নি। এ কারণেই চিকিৎসা অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। এমনকি মৃত্যুর শেষ মুহুর্তেও চিকিৎসকদের খুঁজতে তাদের রুমে গিয়েও পাওয়া যায়নি।

তবে হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা বলেন, সুলতানা নামের রোগীর অবস্থা আগে থেকেই সঙ্কটাপন্ন ছিল। ইতিপূর্বে তার পেটে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

কোতয়ালী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ জালাল বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকার পাশাপাশি স্বজনরা মৃতদেহ নিয়ে চলে গেছে।

advertisement