advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অনেকেই দেশ ছাড়ার চেষ্টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৩:০৮
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার এবং যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একেএম মোমিনুল হক সাঈদ
advertisement

ঢাকা শহরে অবৈধ ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গে জড়িতদের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার এবং যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একেএম মোমিনুল হক সাঈদ এখন দেশের বাইরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যাসিনো-পাড়ায় অভিযান চালানোর খবর আঁচ করে আগেভাগেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন এ দুজন। ক্যাসিনো কারবার ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন অধিদপ্তরের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে মোল্লা কাওছার ও সাঈদের বিরুদ্ধে। তাদের দেখানো পথে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এখন দেশ ছাড়ার চেষ্টায় আছেন। যদিও বেশ কয়েকজনের নামে দেশত্যাগের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত বুধবার র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাব, মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ নামের চারটি প্রতিষ্ঠানে ক্যাসিনো চালানোর অপরাধে সিলগালা করে দেয়। অভিযানের পর র‌্যাব জানায়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোর সভাপতি হচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোল্লা কাওছার এবং এটি নেপথ্য থেকে পরিচালনা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ। যদিও সাঈদের দাবি, তিনি ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সঙ্গে জড়িত নন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ২০১৮-১৯ মেয়াদে ক্লাব পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এ ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাসিনো পরিচালনা করা হয়। ক্লাবে মোল্লা কাওছার তেমন যাওয়া-আসা করতেন না। মোল্লা কাওছারের পক্ষে ক্যাসিনো কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন কাউন্সিলর সাঈদ। গত বুধবার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে র‌্যাব অভিযান চালায়। ওই ক্লাব থেকে কাউকে গ্রেপ্তার না করা হলেও ১০ লাখ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। পাশের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযানের খবর পেয়ে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সবাই আগেভাগেই গা-ঢাকা দেয়। ওই ক্লাবের দুই নিয়ন্ত্রক মোল্লা কাওছার ও সাঈদের বিরুদ্ধে সরকারি ভবনে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোল্লা কাওছার খুবই ধুরন্ধর প্রকৃতির মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা করা কাওছার আইনের মারপ্যাঁচ ভালোই বোঝেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী মোল্লা কাওছার ধানম-ির ৬/এ নম্বর রোডের ৪৮ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। চলাফেরাও করেন খুবই সাদামাটাভাবে। তাকে দেখে মনেই হয় না, ক্যাসিনো কারবার কিংবা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মতো ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন তিনি। অথচ গণপূর্তের ঠিকাদারি যারা করেন তাদের ভাষ্যে, জিকে শামীমের অন্যতম গডফাদার মোল্লা কাওছার। র‌্যাবের হাতে গত শুক্রবার আটক হয়েছেন দেশের আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে আমেরিকা রয়েছেন মোল্লা কাওছার। সম্প্রতি তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে দেশে ফিরবেন না। এসব বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে এ প্রতিবেদক হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

গত কয়েক বছর ধরে কাউন্সিলর সাঈদ ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গে যুক্ত। যুবলীগে পদ পাওয়ার পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন সাঈদ। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর গড়ে তোলেন ডিএসসিসির আওতাধীন হাটগুলোর টেন্ডার সিন্ডিকেট। ফলে কয়েক বছর ধরে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারা ঘুরেফিরে একই ব্যক্তির হাতে চলে যায়। এসব নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাঈদ।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আরামবাগ ও ফকিরাপুলের রাস্তায় লোহার গেট ও সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিরাপত্তার কথা বলে প্রতি বাসা, দোকান ও প্রেস থেকে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে আদায় করতেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সিঙ্গাপুর থেকে মমিনুল হক সাঈদ আমাদের সময়কে বলেন, আমি আরামবাগ ও দিলকুশা ক্লাবের সভাপতি। ক্যাসিনো চালানোর ইচ্ছা থাকলে আমি আমার ক্লাবে চালাতাম, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে গিয়ে কেন ক্যাসিনো চালাব আমি? তিনি আরও বলেন, আমি হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। আমার ক্লাব গত কয়েকবছর টানা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিভিন্ন খেলায়, আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলর- আমি কেন ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবো? এগুলো আমার নামে অপপ্রচার। তিনি আরও জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর আছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত আইসিইউতে ছিল তার ছেলে।

advertisement