advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বহিরাগতদের হামলায় রক্তাক্ত শিক্ষার্থীরা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৫১
বশেমুরবিপ্রবিতে গতকাল হামলার পর আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন সতীর্থ আন্দোলনকারীরা ষ আমাদের সময়
advertisement

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের বাইরে বেশ কয়েক স্থানে এ হামলা চালানো হয়। এতে ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের নির্দেশেই ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এ হামলা করা হয় বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তবে উপাচার্য এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে পদ ছেড়েছেন সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ন কবির।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতে আজ রবিবার থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শনিবার পর্যন্ত হল ছাড়ার সময় দিলেও শুক্রবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলে খাবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় হলের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সব প্রবেশদ্বারই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়কে বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরনের যানবাহন চলাচল।

এর মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক শিক্ষার্থী। উপাচার্যের অপসারণের এক দফা দাবিতে তারা শুক্রবার সারারাত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বাইরে থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা হয়। উপজেলার মোড়, গোবড়া, হাসপাতাল মোড়, নীলার মাঠ, নবীনবাগ, সোবহান সড়ক, সোনাকুড় এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় অনেক শিক্ষার্থীকেই পানিতে ঝাঁপ দিয়ে বিল পাড়ি দিতে দেখা গেছে। হামলায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৫ জনকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে নেওয়া হয়েছে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তবে পেটোয়া বাহিনীর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া ও রাস্তা বন্ধ থাকায় আহত অনেককেই হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে হামলার খবরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গোটা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। উৎকণ্ঠা, উত্তেজনা ও শঙ্কার মধ্যেও শহর থেকে ক্যাম্পাসে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরে তারা সার্কিট হাউসের সমানের এবং গোবড়া-সোবহান সড়কে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে সেøাগান দিতে থাকেন।

বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর কে বা কারা হামলা করছে তা আমার জানা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এর পরও যদি আন্দোলনকারীরা না সরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে ১৪৪ ধারা জারি করতে হবে। তবে ভিসি আমাকে ১৪৪ ধারা জারির জন্য অনুরোধ করেছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নূরউদ্দিন আহমেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ জন্যই হলের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসককে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি ও পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ন কবিরের পদত্যাগপত্র এখনো হাতে পাননি বলেও জানান রেজিস্ট্রার নূরউদ্দিন।

হামলার প্রতিবাদ ঢাবিতে : বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংগঠনটি। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ডাকসুর ভিপি ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, “বশেমুরবিপ্রবির ভিসি শিক্ষার্থীদের ‘বাছুর’ বলে সম্বোধন করেছেন। এ রকম একজন অপদার্থ ভিসিকে দিয়ে একটি বিশ^বিদ্যালয় চলতে পারে না। আমরা হুশিয়ারি দিয়ে বলতে চাইÑ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে ফল ভালো হবে না।”

পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘আমরা ছাত্রসমাজ বশেমুরবিপ্রবির এই নিলর্জ্জ উপাচার্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রয়োজনে আমরা ওই বিশ^বিদ্যালয়ে যাব এবং উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করব।’

প্রতিবাদে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও : বশেমুরবিপ্রবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নেতারা ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আন্দোলনে শরিক হন। বেরোবিসাসের সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম বকুলের সঞ্চালনায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

advertisement