advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সারাদেশেই শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান

আমাদের সময় ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৩:৪৪
advertisement

রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাঙামাটিসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে শুরু হয়েছে ক্লাব পরিচালনার অজুহাতে চলা জুয়ার বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান। র‌্যাব ও পুলিশের এ অভিযানে গতকাল বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো।

চট্টগ্রাম ব্যুরো, নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া ও রাঙামাটি প্রতিনিধির পাঠানো খবর-
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে র‌্যাব অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম নগরীর আইস ফ্যাক্টরি রোডের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে। সেখানে জুয়া খেলার আলামত পাওয়ার দাবি করা হয়েছে র‌্যাবের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, শতদল ক্লাব ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবেও গতকাল রাতে জুয়া খেলাবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে।

র‌্যাবের সিনিয়র এএসপি মিমতানুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রে প্রতিদিন জুয়ার আসর বসার খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ক্রীড়াচক্রের কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল। পরে সেখানকার একজন নিরাপত্তাকর্মীর সহায়তায় তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে জুয়ার ঘুঁটি ও বোর্ড জব্দ করা হয়। তবে আরও অনেক আলামত আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেগুলো জব্দ করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের পরিচালনা কমিটিতে রয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। র‌্যাব ৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল ইসলাম ইতিপূর্বে জানিয়েছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের অভিযান শেষে আবাহনী ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবেও অভিযান চালানো হবে। সেই ধারাবাহিকতায় গত রাতে এ দুটি ক্লাবসহ ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও শতদল ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। আবাহনী ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন একই দলের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী।

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি শাহ আলম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন শাহাবুদ্দিন শামীম। তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এদিকে রাঙামাটি শহরের ব্রাদার্স স্পোর্টিং ক্লাব থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জমির উদ্দিনসহ ১১ জন এবং রাইজিং ক্লাব থেকে একজনকে আটকের পর জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরের অন্য ক্লাবগুলো জনশূন্য হয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্লাবগুলোয় থাকা জুয়াড়ি ও নেশাগ্রস্তরা পালিয়ে যায়। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে জুয়া ও মদ্যপানরত ১২ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে দ- প্রদান করা হয়। এ ছাড়া দেশীয় ও বিদেশি মদ এবং জুয়া খেলার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশ জানান, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে বগুড়ায় মিনি ক্যাসিনো নামে পরিচিত বগুড়া টাউন ক্লাবে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। অভিযান চলাকালে বগুড়ার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী টাউন ক্লাবের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক শামীম কামাল শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রাত ৯টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থিত টাউন ক্লাবে সদর থানাপুলিশের অভিযানে নগদ টাকা, জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ ১৫ জনকে আটক করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধ নির্মূলে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদা দাবির অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যুবলীগের কতিপয় নেতা সম্পর্কেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা শোভন-রাব্বানীর চেয়েও খারাপ। যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে। আরেকজন এখন দিনের বেলাতেই প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলে। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরে। তিনি বলেন, এসব বন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্রবাজি করে, যারা ক্যাডার পোষে, তারা সাবধান হয়ে যাও, এসব বন্ধ কর। তা না হলে যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরও দমন করা হবে।

এরপর গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে শুক্রবার আরেক প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা জিকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন গ্রেপ্তার করা হয় কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে। এদের সবার বিরুদ্ধেই অবৈধ অস্ত্র, মাদক, অর্থপাচারের আইনে মামলা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু (৩৫) ও কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনকে (৪০) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

কবির হোসেন

 

advertisement