advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাটশিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

আবু আলী
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:১২
advertisement

বাংলাদেশের এককালের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। নানা কারণে সেই ঐতিহ্য হারানোর পথে পাট খাত। পাট খাতের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে কৃষি খাতের মতো পাট খাতেও ৪ শতাংশ সুদে একটি ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয় সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রের।

সূত্র জানিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় পাট খাত সমন্বয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে পাটশিল্পের উন্নয়নে ২ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আদলে এ তহবিল চায় তারা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ পাঠায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এ ফান্ড গঠনের ব্যাপারে অর্থ বিভাগ, এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার পর প্রস্তাবিত তহবিলের অর্থের উৎস, পরিচালনা পদ্ধতি, ব্যবহারের ব্যাপারে নীতিমালা প্রণয়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ আবার প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আবারও সংশ্লিষ্টদের মতামত চেয়ে পুনরায় প্রস্তাব পাঠাতে বলে। কিন্তু সে বিষয়ে কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংক মতামত দেয়। এর পর অর্থ বিভাগের মতামত চাওয়া হয়। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসএম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, পাট খাতের উন্নয়নের জন্য কোনো তহবিল গঠন করা হলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে ২৮৫টি জুট মিল রয়েছে। এর মধ্যে বিজেএমএর ১৬৫টি জুট মিলের মধ্যে ৪২টি বন্ধ, বিজেএসএর ৯৪ মিলের মধ্যে ১২টি বন্ধ এবং বিজেএমসির ২৬টির মধ্যে ১টি মিল বন্ধ। এ জন্য ৪ শতাংশ সরল সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের বিকল্প নেই। বিজেএমএর প্রতিনিধিরা জানান, দেশের পাটশিল্প খাত কঠিন সমস্যার সম্মুখীন। পাটপণ্যের চাহিদা সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। বাজারমূল্যও তীব্রভাবে কমেছে। ফলে ৮ থেকে ২০ শতাংশ হারে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) মহাসচিব আ. বারিক খান বলেন, বর্তমানে ২০ হাজার কোটি টাকার ইডিএফ তহবিল রয়েছে। তবে এ তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারেন না পাটশিল্পের উদ্যোক্তারা। গত ৩১ বছর ধরে মাত্র ২ শতাংশ সুদে রপ্তানি খাতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া, সিরামিকসহ অন্যান্য খাত এ তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাচ্ছে। পাট ও পাটপণ্য রপ্তানিতে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার হওয়ায় এতদিন ইডিএফের ঋণ সুবিধায় পাট খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে ৮ থেকে ২০ শতাংশ হারে ঋণ নিতে হয় পাটশিল্প খাতের ব্যবসায়ীদের। এ জন্য পাট খাতের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই পাটশিল্প খাত বাঁচাতে ২ শতাংশ সরল সুদে ঋণ দিতে হবে।

advertisement