advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অর্থনীতি সুসময়েও দুর্বল আর্থিক খাত

গোলাম রাব্বানী
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:১২
advertisement

দেশের জিডিপি, মাথাপিছু আয় সবকিছু ইতিবাচক থাকলেও আর্থিক খাতগুলোর অবস্থা এখনো ভালো নয় বলে জানায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। গত বুধবার প্রকাশিত আইএমএফের আর্টিকেল-৪ মিশনের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কারের জন্য অনেক প্রস্তাবনা দেয় সংগঠনটি।

ব্যাংক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উচ্চহারে বাড়ছে। ঋণের পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের সংখ্যা বাড়ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের পুঁজিবাজার ভালোভাবে কার্যকর হলে ব্যাংক খাত থেকে অর্থায়নের চাপ কমে যেত। সঞ্চয়পত্র নিয়ে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছে আইএমএফ। সঞ্চয়পত্রের দাম, মুনাফাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এ খাতের সংস্কারে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এগুলো হচ্ছে ব্যাংক খাতের বিধিবিধান ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কার, ব্যাংক খাতে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের বিভিন্ন শর্ত কঠোর করা, ঋণের টাকা পুনরুদ্ধারের আইনি পদক্ষেপ শক্তিশালী এবং ব্যাংকের করপোরেট সুশাসন জোরদার করা।

অবকাঠামো খাতের উন্নতির জন্য রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। করজাল বৃদ্ধির পাশাপাশি কর প্রশাসনের সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে আইএমএফ। কর প্রশাসনকে আধুনিক করতে হবে। ছাড় কমিয়ে দিয়ে করভিত্তি বাড়াতে হবে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকে স্বাগত জানালেও অনেকগুলো ভ্যাট হার জটিলতা তৈরি করছে বলে মনে করে সংস্থাটি। একাধিক ভ্যাট হারের প্রয়োগ আরও সহজ করা উচিত, তাতে রাজস্ব আদায় বাড়বে। অর্থনীতির ঝুঁঁকি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাত সংস্কারে ধীরগতি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করতে পারে এবং আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা কমে যাওয়ার কারণে রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত দেড় দশকে কিছুটা উন্নতি করেছে। তবে সরকারি উদ্যোগগুলো কার্যকারিতায় সামান্য পিছিয়েছে। আইনি মান সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় মানে নেই বাংলাদেশ।

advertisement