advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বন্যায় দেবে যাওয়া সেতুতে দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

আবু জুবায়ের উজ্জল টাঙ্গাইল সদর
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:১২
সাম্প্রতিক বন্যায় দেবে যায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তোরাপগঞ্জ-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের এই সেতুটি -আমাদের সময়
advertisement

সাম্প্রতিক বন্যার পানির তোড়ে দেবে যাওয়া সদর উপজেলার তোরাপগঞ্জ-বঙ্গবন্ধু সেতু শেখ হাসিনা সড়কের কাকুয়া ইউনিয়নের রাঙ্গাচিড়া সেতুটি এখন ২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকাবাসী ছোট ছোট যানবাহন পারাপারের জন্য সাময়িকভাবে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে। এতে কাঠের পাটাতন লাগানো হয়েছে। এই সাঁকো দিয়েই অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি, মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। স্থানীয়রা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। তাদের অভিযোগ, রাঙ্গাচিড়ায় নির্মিত সেতুটির নিচে কোনো আরসিসি পিলার ছিল না। সে কারণে বানের তোড়ে গত জুলাইয়ে দেবে যায় সেতুটি।

টাঙ্গাইল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২২ লাখ টাকায় রাঙ্গাচিড়া সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের দায়িত্বে ছিল মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অটোরিকশাচালক হাসেম আলী ও জব্বার আলী জানান, দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

রাঙ্গাচিড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মো. দুলাল মিয়া জানান, এ সাঁকো দিয়ে এভাবে যান চলাচল অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

কাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আ. সাত্তার জানান, সেতুর দরপত্রে পাইলিং করার নির্দেশনা ছিল না। সে কারণে বন্যার পানির স্রোতে নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে দেবে গেছে সেতু। এ সেতুর কারণে চরাঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

কাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রকৌশলীকে (এলজিইডি) চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল গনি জানান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ কর্তৃক নির্মিত যেসব সেতু এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার তালিকা নেওয়া হচ্ছে। অধিক গুরুত্বসম্পন্ন সড়কে যেসব সেতু ধসে গেছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, তোরাপগঞ্জ-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কটি জননেত্রী শেখ হাসিনা সড়ক হিসেবে পরিচিত। যদিও সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের গোলচত্বর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার সড়কটি বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের সহায়তায় নতুন করে নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। রাঙ্গাচিড়ায়ও এ বছরের মধ্যে চওড়া ও মজবুত করে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

advertisement