advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাড়ে ২৪ কোটি টাকার সেতু কাজে আসছে না : মাত্র ৩০০ মিটার সড়কের অভাব

মিজানুর রহমান রাঙ্গা সাঘাটা
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:১২
এই সেতুটির দক্ষিণে মাত্র ৩০০ মিটার সড়ক হলেই সুফল পাবে ৩ উপজেলার আড়াই লাখ মানুষ -আমাদের সময়
advertisement

আড়াই বছর আগে সেতুটির ওপর দিয়ে পারাপার শুরু হয়। এ সেতু নির্মাণ হওয়ায় তিন উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নও সত্য হয়। কিন্তু এর সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। এটি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া-রামনগর বাজার সড়কের কাটাখালী নদীর ওপর ত্রিমোহনী সেতু। সেতুর দক্ষিণে বিষপুকুর গ্রামে মাত্র ৩০০ মিটার রাস্তা নির্মাণ না হওয়ায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। যানবাহন চলাচল না করায় সেতুর দুপাশে শুধুই নীরবতা।

সেতুর ওপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিষপুকুর গ্রামের বৃদ্ধ আবদুল কাইয়ুম মিয়া জানান, মাত্র ৩০০ মিটার রাস্তা তৈরির দাবি একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজই হচ্ছে না। রাস্তা তৈরির জন্য এলাকাবাসী আবাদি জমি ছেড়ে দিলেও রাস্তা কেন হচ্ছে না বলে প্রশ্ন করেন একই গ্রামের আরেক ব্যক্তি নাজিম উদ্দিন। সেতুর দক্ষিণে পাড়ের সোনাইডাঙ্গা গ্রামের দুলু মিয়া জানান, এত কোটি টাকা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করেও সামান্য এটুকু রাস্তার জন্য মানুষ যাতায়াত করতে পারছে না, এলাকাবাসীর জন্য এটা একটা বড়ই দুঃখ।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি সেতুর অভাবে আট কিলোমিটার সড়কের স্থলে ৭০ কিলোমিটার ঘুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে আসছিল তিন উপজেলার মানুষ। অন্তত ১০০ বছর আগে থেকে কাটাখালী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি ছিল এলাকাবাসীর। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে (এলজিইডি) এ নদীর ওপর ৪ হাজার ২৫ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ২১ অক্টোবর। ব্যয় হয় ২৪ কোটি ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬০ টাকা। ২০১৬ সালের ২৪ মে সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় কাজ পিছিয়ে যায়। পরে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর সেতু খুলে দেওয়া হয়। সাঘাটা উপজেলার সদর বোনারপাড়া থেকে সেতু পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত ও নতুন করে পাকাকরণ হলেও ওপারে পশ্চিম অংশের বিষপুকুর গ্রামে মাত্র ৩০০ মিটার সড়ক নির্মাণের অভাবে গোবিন্দগঞ্জ সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ চালু হচ্ছে না।

বোনারপাড়ার কাপড় ব্যবসায়ী জিয়াউল করিম বলেন, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জে যাতায়াতে ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব কমেছে। এ এলাকার মানুষ মাত্র ২৫ মিনিটে গোবিন্দগঞ্জে পৌঁছবে। কিন্তু মাত্র ৩০০ মিটার সড়কের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে কথা হয় সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম জানান, সাঘাটা অংশের সড়কের কোনো কাজ বাকি নেই। ওপারের কাজের টেন্ডার হয়েছে বলে শুনেছি। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল লতিফ জানান, নদী ও নিচু এলাকা হওয়ায় কাজে দেরি হচ্ছে। শেষ হতে একটু সময় লাগবে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম শেখের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

advertisement