advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তেঁতুলিয়ায় হুমকির মুখে পাওয়ার প্ল্যান্ট : যুবলীগ নেতাদের চাঁদাবাজি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:১২
advertisement

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহানহাট ইউনিয়নে নির্মিতব্য সিমপা পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। চাঁদার দাবিতে যুবলীগ নেতাকর্মীদের দেওয়া হুমকিতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীই প্রতিষ্ঠানের বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ। ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠনটির পরিচালক জার্মান নাগরিক স্টিফেন ডাটহেল। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই ইউপি ট্যাক্সের নামে মাঝিপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত প্যারগন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাকুয়া ব্রিডার্সের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছেন। সম্প্রতি প্যারাগন গ্রুপ সেখানে সিমপা পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ১০ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তেঁতুলিয়া উপজেলায় সরবরাহ করছে। এরই মধ্যে যুবলীগের ওই নেতা ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ডদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চঁাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ওই রাতেই স্থানীয় ডাহুক ব্রিজের সামনে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে গ্রুপের মুরগি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের একটি ট্রাক গতিরোধ করেন যুবলীগের ওই নেতাসহ তার ১০-১২ অনুসারী। চালকের কাছেও এ সময় চাঁদা দাবি করেন তারা। এতে অসম্মতি জানালে এলোপাতাড়ি মারধর করে ৪২ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনা কাউকে বললে হত্যার হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যান। এর আগে গত ২৯ আগস্ট সিমপা পাওয়ার প্ল্যান্টের পরিচালক স্টিফেন ডাটহেল জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করে জানান, সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে যুবলীগ নেতা আশরাফুল বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করছেন। পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ অভিযোগে সিমপা পাওয়ার প্ল্যান্টের সিকিউরিটি অফিসার শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। এতে শালবাহানহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা আজহারুল ইসলাম, মাঝিপাড়ার আলী হোসেন ও প্রামাণিকপাড়ার শাহ আলমের নামসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়। এর পরই আলী হোসেন ও শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিদেশিরা কাজে আসতে চান না। এ রকম চলতে থাকলে পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে যে কোনো সময়।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আশরাফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। মূলত ২০১৮ সালে পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণে মালামাল সরবরাহে প্যারাগন গ্রুপের সঙ্গে তার চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী তিনি ৪১ লাখ টাকার ইট, পাথর, বালি সরবরাহ করেছেন। প্রতি সপ্তাহে বিল দেওয়ার কথা থাকলেও ৯ মাস ধরে কোম্পানির কাছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। ওই টাকা চাইতে গেলে তারা চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছে বলে যুবলীগের এ নেতার উল্টো অভিযোগ করেন।

মামলার বিষয়ে তেঁতুলিয়া থানার ওসি জহুরুল ইসলাম জানান, চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলাটি হয়েছে। এরই মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্যও অভিযান অব্যাহত আছে।

advertisement