advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেয়েদের বীরত্ব

এম.এম. মাসুক
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৪৪
অস্ট্রেলিয়ার জালে গোলের পর মারিয়াদের উল্লাস ষবাফুফে
advertisement

তহুরা খাতুনের জোড়া গোলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা জেগে উঠেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রাখতে পারেননি লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। খেলার শেষ দিকে একটি গোল করে বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচটি ২-২ ব্যবধানে ড্র করেছে অস্ট্রেলিয়া। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অস্ট্রেলিয়া নারী ফুটবল দলের অবস্থান ৮ নম্বরে। আর বাংলাদেশ অবস্থান ১৩০ নম্বরে।

১২২ ধাপ পিছিয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে হার অনুমিত ছিল। এ ছাড়া ৭২ ঘণ্টা আগে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ৯-০ গোলে হারের পর মাঠে নামে বাংলাদেশ। তবে মাঠের লড়াইয়ে দৃশ্যপট ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফুটবলে বীরত্ব-ই দেখালেন তহুরা-মারিয়ারা। তাদের খেলা দেখে বুঝাই যায়নি যে দুদলের র‌্যাংকিংয়ে বড় পার্থক্য। কিন্তু দুবার এগিয়ে গিয়েও ঐতিহাসিক জয় পাননি বাংলাদেশের মেয়েরা। কাগজ-কলমের হিসাবে জয় না এলেও এই ড্র তো জয়ের সমান-ই! বাংলাদেশ নারী ফুটবলের ইতিহাসে এ ড্র-ই সেরা সাফল্য বলাই যায়।

হারের মুখ থেকে ফিরেছে দল। বাংলাদেশের মেয়েরা যে ফুটবল প্রদর্শনী দেখালেনÑ তাতে মুগ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ রে ডোয়ার। ম্যাচশেষে তিনি জানালেন, আমি প্রথমেই বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাতে চাই। কেননা সত্যি চমৎকার একটি ম্যাচ খেলেছে তারা। মাঠে তারা পরিকল্পনা দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে দ্বিতীয়বারের মতো খেলছে বাংলাদেশ। গত আসরে কোনো ম্যাচেই জয় পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এবার ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল। প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ১-০ গেলে হেরেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। এর পর জাপানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন তারা। তবে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিলেন তহুরা-মারিয়ারা। এশিয়া মহাদেশে নারী ফুটবলেও যে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করেছেÑ সেটির প্রমাণ দিলেন তারা।

আগের দুই ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে খুশি না হলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্রয়ের পর উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। তিনি জানান, চমৎকার খেলেছে মেয়েরা। ম্যাচের আগে আমি বলেছিলামÑ আমাদের সামর্থ্যরে সেরা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলার দরকার। বড় টুর্নামেন্টেও যে আমাদের মেয়েরা খেলতে পারেÑ তা দেখিয়ে দিল। দুর্ভাগ্যক্রমে থাইল্যান্ডের কাছে ম্যাচটি আমরা হেরেছিলাম। দ্বিতীয় ম্যাচটি হতাশাজনক। তবে আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশ। ২১ মিনিটে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন তহুরা খাতুন। পাল্টা-আক্রমণে সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ দক্ষতায় কাক্সিক্ষত ঠিকানায় বল পাঠিয়ে দেন এ স্ট্রাইকার। এবারের আসরে প্রথম গোলের দেখা পান তিনি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যান বাংলাদেশের মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে ৭৬ মিনিটে ম্যাচে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। পরের মিনিটেই আবার বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন তহুরা। কিন্তু ২-১ স্কোর লাইন বেশি সময় ধরে রাখতে পারেননি তারা। ৮০ মিনিটে আবারও সমতায় ফিরে অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচ খেলে দুটি হার ও একটি ড্রয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলেন বাংলাদেশের মেয়েরা।

জাপানের কাছে হারের পরই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচ ছিল। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট অর্জন করতে পেরেছে বাংলাদেশ। এ প্রাপ্তিও কম নয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে একটি জয়ের রেকর্ড রয়েছে একমাত্র ভারতের। এবার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ড্র করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করল বাংলাদেশও।

কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শামসুল হক রেজা আমাদের সময়কে জানান, শফিকুল আলম কৃষক লীগের প্রাথমিক সদস্যও নন সুতরাং বহিস্কারের প্রশ্নই উঠে না।

advertisement