advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অভিযোগ থাকলে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা : হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:২৪ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:৪৩
মাহবুবুল আলম হানিফ। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। 

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (আইইবি)-এর কম্পিউটার কৌশল বিভাগ ‘পলিসি বেইজড চ্যালেঞ্জেস ফর দ্য ফোরথ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হানিফ এ মন্তব্য করেন। আইইবি’র কাউন্সিল হলে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে হানিফ বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, আপনাদের এত খুশি হওয়ার কারণ নাই। আমরা অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।  বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘ক্যাসিনোর সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সে অভিযান অব্যাহত আছে।  দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্সনীতি এখানো অব্যাহত আছে এবং থাকবে।’ 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুর্নীতি হতে পারে, অনৈতিক কাজ হতে পারে, কিন্তু আমরা সেটাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি কি না সেটা বিবেচ্ছ্য বিষয়।  দুর্নীতিকে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্রয় দেননি, সরকারও প্রশ্রয় দিচ্ছে না। যেকারণে আজ কে-কোন দলের, সেটা বিবেচনা করা হচ্ছে না।  প্রতিটা অপরাধীকে চিহ্নিত করে তারে বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জুয়াড়ি, মদ্দপায়ীদের কর্মকাণ্ডের জন্য সরকারের এত অর্জন ম্লান হতে পারে না। শেখ হাসিনা যে মেধা-শ্রমকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, কিছু অনৈতিক মানুষের জন্য তা ম্লান হতে পারে না।  প্রয়োজনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর হবো। ’

‘এরপরও অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের বিএনপির ভাই-বোনের মধ্যে যারা আছেন তারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তো বলেই বসলেন যে, “সরকার ব্যর্থ তাই তাদের উচিৎ পদত্যাগ করা।” আমার প্রশ্ন হলো, কীসের ভিত্তিতে ব্যর্থ ভাই? এই ক্যাসিনোর জন্য ব্যর্থ? নাকি অন্যকিছু? কোনটা?’ প্রশ্ন রাখেন হানিফ।’

জি কে শামীমের পরিচয় তুলে ধরে হানিফ বলেন, ‘জি কে শামীম কে? জি কে শামীম তো মির্জা আব্বাসের হাত দিয়েই উঠে এসেছে। তিনি যখন পূর্তমন্ত্রী ছিলেন, তখনই জি কে শামীমের উত্থান হয়েছিল। এখন যখন ধরা পড়েছে, তখন বিএনপি নেতারা বলছেন, তাকে চেনেন না। জি কে শামীমের যে ডায়রি পাওয়া গেছে, সেখানে কাকে কত টাকা দেন তা আজ আমরা একটি অনলাইন গণমাধ্যমে জানতে পেলাম। জি কে শামীম নিয়মিতভাবে টাকা দিতেন তিন শীর্ষ নেতাকে। তবে তার মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলামের নাম পাওয়া গেছে। বিএনপির আরও অনেক নেতা আছে।  আপনার সব জায়গাতেই আছেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর প্রেসিডেন্ট ও আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক, ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ এবং বিশিষ্ট তথ্য প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর।

এ ছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েট কো-অর্ডিনেটর, (সিআরআই) প্রকৌশলী তন্ময় আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন আইইবি’র কম্পিউটার কৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান এবং কানাডিয়ান ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম।  সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ।

advertisement