advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ, অবরুদ্ধ সিভিল সার্জন

মো. রেজাউল করিম রঞ্জু,নীলফামারী
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:২২ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:২৭
নীলফামারীতে রোগীর শরীরে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করায় স্বজনদের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

নীলফামারিতে পঞ্চাশ বছর বয়সী এক নারীর শরীরে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।  এ ঘটনায় রোগীর স্বজনেরা জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন। 

আজ রোববার সকালে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে জেলা সদরের নতুন বাজার কলোনি এলাকার আব্দুল ওহাবের স্ত্রী মল্লিকা বেগম (৫০) অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ হওয়ার পর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে দ্রুত নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  এসময় জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় উপস্থিত কর্মচারীরা অসুস্থ মল্লিকা বেগমকে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ডে পাঠান। 

এসময় ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র নার্স কল্পনা রানী দাস ও ছায়া রানী অসুস্থ মল্লিকা বেগমকে স্যালাইন পুশ করেন। স্যালাইন দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর অর্থাৎ রাত ১২টার দিকে রোগীর অবস্থার অবনতি হয়। এসময় রোগীর স্বজনেরা দেখেন যে স্যালাইনটি পুশ করা হয়েছে সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এরইমধ্যে স্যালাইনের বেশিরভাগই শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বরত নার্সের সঙ্গে রোগীর লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয় এবং বিষয়টি সকালে জেলা শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি প্রথমে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করলেও পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কারণে তার আর ধামাচাপা দিতে পারেনি।

এ ঘটনায় হাসপাতালে রোগীদের শরীরে দেওয়া সব স্যালাইন চেক করে দেখা গেছে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করা হয়েছে। এর পর হাসপাতালের স্টোররুমে অভিযান চালায় জেলা পুলিশ প্রশাসন। এসময সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ আরও ওষুধ ও স্যালাইন পাওয়া যাওয়ায় রাতেই হাসপাতালের স্টোর রুম সিলগালা করে দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন ডা. রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন,  ‘‌ঘটনা তদন্তে ডা. এএসএম রেজাউল করিমকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।’

এদিকে আজ রোববার সকালে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সিভিল সার্জন কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন শত শত লোকজন।  একই সঙ্গে তারা সিভিল সার্জন ও ঘটনায় জড়িত নার্স কল্পনা রানী দাসের অপসারণ ও বিচারের দাবি জানান। 

এসময় চরম উত্তেজনা দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

advertisement