advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অভিযান চলে ক্লাবপাড়ায় আতঙ্কে অপরাধপাড়া

হাবিব রহমান
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৩৪
ছবি-সংগৃহীত
advertisement

যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জিকে শামীম এবং কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকার অপরাধজগতে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার এ তিনজনের সঙ্গেই ঢাকার অপরাধজগতের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভাড়াটে কিলার ও টেন্ডারবাজদের গভীর সখ্য ছিল। দখলবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুনখারাবিসহ বিভিন্ন অপকর্মে ঢাকার অপরাধজগতের বাসিন্দাদের ব্যবহার করতেন এ তিন জন। তাদের গ্রেপ্তারের সংবাদে অপরাধজগতের বেশিরভাগ সদস্যই গা ঢাকা দিয়েছেন। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে তাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ। অথচ কয়েকদিন আগেও তারা অস্ত্রের বহর নিয়ে অনেকটা প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেন।
এদিকে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহচর শীর্ষসন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে বিরোধ

তৈরি হয় জিকে শামীম ও ঢাকা মহানগর যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার। এ সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন যুবলীগ নেতা খালেদ। বিরোধের একপর্যায়ে জিসান ক্ষুব্ধ হন তাদের ওপর। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেন। এ অবস্থায় জিসানের সঙ্গে বিরোধ মেটাতে দেশের বাইরে সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন খালেদ। গত জুন মাসের মাঝামাঝি সিঙ্গাপুরে যান জিকে শামীম, মহানগর যুবলীগের ওই শীর্ষনেতা ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। জিসানও দুবাই থেকে সিঙ্গাপুরে যান। সিঙ্গাপুর শহরের মেরিনা বে এলাকার একটি বিলাসবহুল হোটেলে তাদের বৈঠক হয়। যদিও সে বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি। এর পর দেশে ফিরে আসেন জিকে শামীম ও যুবলীগের ওই শীর্ষনেতা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্রমতে, শীর্ষসন্ত্রাসী জিসানের নামে এক সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন জিকে শামীম। বিভিন্ন ব্যবসায় এ দুজনের অংশীদারত্বও ছিল। জিকে শামীমকে যুবলীগ নেতারা কব্জা করে ফেলায় তার সঙ্গে জিসানের বিরোধ শুরু হয়।
সূত্র জানায়, জিসানের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে জিকে শামীমের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই শীর্ষসন্ত্রাসীর অবৈধ আয়ের নানা ঘাট দুই থেকে আড়াই বছর আগে দখল করে নেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের ওই শীর্ষনেতা। তার ছায়ায় জিসানের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে জিকে শামীমের। শামীম ও যুবলীগের ওই নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। সাম্প্রতিককালে যুবলীগ নেতা খালেদ গোপনে জিসানের সঙ্গে এক ধরনের যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। তাই তিনি দায়িত্ব নেন যুবলীগের শীর্ষনেতা ও শামীমের সঙ্গে জিসানের পুরনো দ্বন্দ্ব মেটানোর। এরই ধারাবাহিকতায় বসে সিঙ্গাপুরের ওই বৈঠক। জানা গেছে, বৈঠককালে জিসান টাকার হিসাব চান শামীম ও যুবলীগের ওই নেতার কাছে। এ নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শীর্ষসন্ত্রাসী জিসান। বৈঠকের কয়েকদিন পর গত ২৬ জুলাই রাতে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার একটি বাসা থেকে বিদেশি অস্ত্র, গুলিসহ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জিসানের ২ সহযোগীসহ ৩ জন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- খান মোহাম্মদ ফয়সাল (৩৮), জিয়াউল আবেদীন ওরফে জুয়েল (৪৫) ও মো. জাহিদ আল আবেদিন ওরফে রুবেল (৪০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি একে ২২ রাইফেল, চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও ৪৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। অটোমেটেড একে ২২ রাইফেলটি আমেরিকায় তৈরি। ডিবি পুলিশ তখন জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে দুজন শীর্ষসন্ত্রাসী জিসানের সহযোগী। তারা দুবাই থেকে একটি বিশেষ কিলিং মিশনে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছে। সূত্রমতে, ডিবি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও গ্রেপ্তারকৃতরা তুলে ধরেছে জিসানের হত্যা পরিকল্পনার তথ্য।
গত শুক্রবার র‌্যাবের হাতে ৭ অস্ত্রধারী দেহরক্ষীসহ গ্রেপ্তার হন জিকে শামীম। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনিও জানিয়েছেন, তিনি আগে কখনো এত দেহরক্ষী রাখেননি। মূলত জিসানের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ার পর থেকে তার আক্রমণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতেই নিরাপত্তা টিম গঠন করেন।
এক সময় ঢাকার অপরাধজগৎ কাঁপানো শীর্ষসন্ত্রাসীদের কেউ এখন বিদেশে, কেউবা কারাগারে। তালিকভুক্ত ২৩ শীর্ষসন্ত্রাসীর মধ্যে অন্যতম জিসান অনেক বছর ধরেই দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই ঢাকার অপরাধজগতে নিজের আধিপত্য বজায় রাখছেন এই শীর্ষসন্ত্রাসী। যথারীতি তার হুকুমে চলছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি।
খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জিকে শামীম ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী চলমান অভিযানে আরও রাঘববোয়াল রয়েছেন গ্রেপ্তারের তালিকায়, যাদের অপরাধজগতের সঙ্গে গভীর কানেকশন আছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন প্রেক্ষাপটে চলমান অভিযান ঢাকার অপরাধজগতে (আন্ডারওয়ার্ল্ড) নতুন এক সমীকরণের বার্তা দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, পুরো বিষয়টির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

 

advertisement