advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নজরদারিতে আসছে দালালরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৩২
advertisement

বিদেশ গমনেচ্ছুদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফল হচ্ছে না জানিয়ে প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান বলেছেন, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যারা দালাল হিসেবে কাজ করে ফায়দা লুটে আসছে তাদের চিহ্নিত করে নজরদারির আওতায় আনা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাক্সফোর্স গঠন করে দালালদের কার্যক্রম মনিটর করা হচ্ছে। ‘অভিবাসী নারী শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে করণীয়’

নিয়ে গতকাল রবিবার বিকালে এক মতবিনিময়সভায় তিনি একথা বলেন।
বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সুফিয়া কামাল ভবনে এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সম্প্রতি ১৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিক অবৈধভাবে ব্রুনাইয়ে গেছে জানিয়ে রৌনক জাহান বলেন, সেখানে আমাদের ৫ হাজারের মতো শ্রমিক বৈধ উপায়ে গেছে; কিন্তু ১৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিক অবৈধভাবে সেখানে গিয়ে আমাদের শ্রমবাজার নষ্ট করে দিচ্ছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিএমইটি, আইএমটি ও টিটিসি থেকে বিদেশে গমনেচ্ছু শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ শ্রমিক তা নিতে চান না বলে জানান সচিব রৌনক জাহান। এর কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দালালরা তাদের বোঝাচ্ছে যে, এই প্রশিক্ষনে তাদের না নিলেও চলবে। ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত গিয়েও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কথা শুনলেই ভাবে, সরকার তাদের নিরুৎসাহিত করছে।
সচিব জানান, কোন গ্রাম থেকে কতজন শ্রমিক দেশের বাইরে যাচ্ছেন তার তালিকা দিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা থেকে গড়ে প্রশিক্ষিত এক হাজার তরুণ-তরুণীকে বিদেশে পাঠানোর যে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন, মন্ত্রণালয় তা পালনে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
রৌনক জাহান জানান, পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন তারা। তবে এবার গৃহকর্মী নয়, প্রযুক্তি ও টেক্সটাইল শিল্পে দক্ষ কর্মী পাঠানোয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ অভিবাসীর মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৬৯৫ জন, শতকরা হিসেবে যা ৭ শতাংশ। গত তিন বছরে অভিবাসী নারী শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫ হাজার অভিযোগ এসেছে বলে জানায় মহিলা পরিষদ।
সভার পরিপত্রে বলা হয়, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের কোনো সহযোগিতা করে না। সৌদি আরব আইএলও সনদের ১৮৯নং অনুচ্ছেদে (অভিবাসী গৃহকর্মীদের ন্যূনতম অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে) অনুস্বাক্ষর না করায়, সেখানে নারী কর্মীদের সুরক্ষা হুমকির মুখে রয়ে গেছে। প্রবাসে নারী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ১১টি সুপারিশ তুলে ধরে মহিলা পরিষদ।

 

 

advertisement