advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যাংক-ব্যালান্সের খোঁজ ক্যাসিনো মালিকদের

হারুন-অর-রশিদ
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১১:২৬
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

ক্যাসিনোতে নগদ লেনদেন, কয়েন ও চিপসের ব্যবহার এ দেশে নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এতদিন ছিল নীরব। কিন্তু ক্যাসিনো কারবারি যুবলীগের একাধিক নেতা সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের নামে ব্যাংকে অর্থ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা যেন এসব অর্থ ইচ্ছেমতো উত্তোলন করে নিতে না পারেন, সেজন্য ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বিএফআইইউ। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও নগদ লেনদেনে সতর্ক থাকতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন রাষ্ট্রায়াত্ত এই সংস্থাটি। মানিলন্ডারিং ও অর্থপাচার ঠেকাতে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ

করে বিএফআইইউ। সূত্রমতে, গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতাদের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য সিআইডি বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে চাওয়া হয়নি বিএফআইইউর পক্ষ থেকে। তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানানোয় সংস্থাটি সজাগ হয়ে উঠেছে এবং ব্যাংকগুলোকেও সেভাবেই সতর্ক করেছে। পুলিশ বা সিআইডি থেকে যাদের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হবে, সেসব সরবরাহ করা হবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

এছাড়া যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের নামে কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে যথাযথ ব্যক্তি ও কাগজপত্র ছাড়া তাদের অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দিতে নিষেধ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের নিজের তো বটেই, নিকটাত্মীয়দের নামে অ্যাকাউন্ট থাকলে তার খোঁজখবরও নেওয়া হচ্ছে। তাদের নামে কি পরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোতে আছে, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে।

বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান আমাদের সময়কে বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে আইনের মাধ্যমে আমাদের করণীয় ও ক্ষমতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো উৎস থেকে কোনো তথ্য পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতারা ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো অপরাধ করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা বের করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্তদের নামে ব্যাংক ব্যালান্স থাকা অস্বাভাবিক নয়। এসব অ্যাকাউন্টের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনও হয়েছে। হয়তোবা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সন্দেহজনক লেনদেন সিটিআর ও এসটিআর হিসেবে রিপোর্ট করেছে। এসব ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আর যদি কোনো ব্যাংক রিপোর্ট না করে থাকে, তা হলে ওই সব ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টে কারা কিভাবে লেনদেন করেছে তার তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। এ সম্পর্কিত তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবে বিএফআইইউ। সন্দেহজনক লেনদেন প্রমাণিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হবে।

এ দিকে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহারে সতর্ক করে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালিত কিছু হোটেল/রেস্তোরাঁ এবং শহরাঞ্চলের সন্নিকটে স্থাপিত বিভিন্ন বিনোদন পার্কে ব্যাংক নোটের আদলে বিভিন্ন মূল্যমানের খাবারের বিল/টোকেন, টিকেট ইত্যাদি ছাপিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। টাকার আদলে এ ধরনের বিল/কুপন/টিকেট ব্যবহারের মাধ্যমে জনসাধারণ প্রতারিত হতে পারে এবং জাল নোট প্রস্তুতকারী চক্রের প্রতারণা এতে করে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, ব্যাংক নোটের আদলে খাবারের মূল/বিল/কুপন/টিকেট প্রস্তুত ও ব্যবহার একটি দ-নীয় অপরাধ। সুতরাং এরূপ কর্মকা- হতে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিশেষভাবে সতর্ক করা যাচ্ছে। এ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর হতে বর্ণিত কর্মকা- হতে বিরত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। গত শুক্রবার যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক এসএম গোলাম কিবরিয়া (জিকে) শামীমকে এবং কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শামীমের কার্যালয় থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ নগদ অর্থ এবং ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর তার মায়ের নামে আর বাকিগুলো নিজ নামে। এই অর্থ দেশের ৮টি ব্যাংকে জমা রয়েছে। এছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।

 

 

advertisement