advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিচারকদের ফেসবুক ব্যবহারে ১৯ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৩১
advertisement

বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি নিয়ম অনুসরণের নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। বিচারিক কর্মঘণ্টার পূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে অফিস চলাকালীন অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কঠোরভাবে পরিহার করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়াও ১১ দফা অবশ্যই পরিহার করতে বলা হয়েছে এবং ৮ দফা অনুসরণীয়। এসব নির্দেশনা না মানলে তা অসদাচারণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর পাশাপাশি প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান প্রযোজ্য। গতকাল রবিবার সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে এ নির্দেশনাবলি জারি করা হয় বলে মুখপাত্র স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

অবশ্যই পরিহারযোগ্য নির্দেশনা : ১. জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো প্রকার তথ্য, মন্তব্য ও অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ২. কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৩. রাজনৈতিক মতাদর্শ বা আলোচনাসংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৪. কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক বা হেয়প্রতিপন্নমূলক কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৫. কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে হেয়প্রতিপন্ন করে কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৬. লিঙ্গবৈষম্যমূলক কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৭. জনমনে অসন্তোষ ও অপ্রীতিকর মনোভব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো তথ্য, মন্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশ ও প্রচার। ৮. কোনো মামলাসংক্রান্তে বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বা প্রচার। ৯. নিয়ন্ত্রণকালী কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বা প্রচার। ১০. বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের ছবি বা ভিডিওক্লিপ প্রকাশ ও প্রচার। ১১. অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয়, মানহানিকর এবং নৈতিকতাপরিপন্থী কোনো স্ট্যাটাস, পোস্ট, লিংক, ছবি ইত্যাদি অন্যজনকে সংযুক্তরণ, আদান-প্রদান, প্রকাশ ও প্রচার।

অনুসরণীয় নির্দেশনা : ১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিতব্য লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি নির্বাচন ও বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা। ২. প্রকাশিত তথ্য ও উপাত্তের যথার্থতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। ৩. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য আদান-প্রদান, প্রকাশ ও প্রচারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা এবং বিচারক সুলভ মনোভব অবলম্বন। ৪. অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন বিষয়ে তথ্য, স্ট্যাটাস বা পোস্ট না দেওয়া। ৫. বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য একটি পোর্টাল, গ্রুপ থাকতে পারে, যেখানে বিচারাধীন মামলার বিষয় এবং ব্যক্তিগত বিষয় ব্যতীত কেবল আইনগত বিষয়ে আলোচনা ও তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। ৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও বিচারক সুলভ আচরণ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। ৭. তথ্য আদান-প্রদান ও বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন। নিজ কর্মক্ষেত্রে মামলার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা মামলা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা। ৮. বাস্তব ও স্বাভাবিক অবস্থায় সহকর্মীদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়াসংক্রান্ত নিয়মনীতি, করণীয় ও বর্জনীয় দিকগুলোর প্রতিফলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিশ্চিত করা।

advertisement