advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে শে^তপত্র নিয়ে তোলপাড়

শাবি প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৬
advertisement

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (শাবি) বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়ার পর এবার বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে শে^তপত্র প্রকাশ হয়েছে। তবে আগের শে^তপত্র আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের একটি প্যানেল বের করলেও এবারেরটি প্রকাশ করেছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শাবিপ্রবির শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ’ নামে একটি মহল। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার

ঝড় উঠেছে ক্যাম্পাসে। তবে পরিচয়বিহীন ব্যানারের পেছনে কারা, তা অস্পষ্ট। যদিও শে^তপত্রের শেষ পৃষ্ঠায় ‘আমাদের দাবি অভ্যন্তরীণ ভিসি’ লিখে একটি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

মলাটবদ্ধ ২৪ পৃষ্ঠার শে^তপত্রে ৫৩টি পয়েন্টে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা, স্বৈরাচারী আচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ আরও বেশ কিছু অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। শাবিপ্রবি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে মেধাতালিকায় প্রথম দিকে থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অন্য বিশ^বিদ্যালয়ের ৩৯, ৫০, ৬৩ ও ৭১তম অবস্থানে থাকা প্রার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে শে^তপত্রের প্রথম পয়েন্টে; কিন্তু কোন বিভাগে কে বা কারা মেধাতালিকার পেছনে থেকে নিয়োগ পেয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি এই পত্রে। এ ছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে শাবিপ্রবি বিদ্বেষী মনোভাব পোষণের অভিযোগও আনা হয়েছে। এ কারণেই যোগ্যতম প্রার্থীকে (৩.৮৪) বাদ দিয়ে বর্তমান কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের মেয়েকে (৩.৫০) শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের অভিযোগ।

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, ‘কোনো অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। আমার দুই বছর মেয়াদে ৭৮ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি, যার মধ্যে ৪৭ জনই শাবিপ্রবির। সুতরাং শাবিপ্রবি বিদ্বেষের কোনো কারণ বা প্রমাণও নেই।’

শে^তপত্রে বিশ^বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হওয়া, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে পূর্বনির্ধারিত ও একপেশে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া, প্রমোশন-আপগ্রেডেশনে বঞ্চিতকরণ, কারণ দর্শানোর পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে শাস্তি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপাচার্য বলেন, ‘২৮ বছরের প্রাণের দাবি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হয়েছে, অধিকতর উন্নয়নের জন্য ৯৮৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রমোশন-আপগ্রেডেশন পাননিÑ এমন একজনও প্রকাশ্যে অভিযোগ দিতে পারবেন না।’

উপাচার্যের বিরুদ্ধে জামায়াত তোষণের মতো গুরুতর অভিযোগও এসেছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের মেধাবী অংশকে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার, সপ্তাহে তিনদিন অফিস করা, ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ে অক্ষমতা, জো বাইকের নামে শিক্ষার্থীদের পকেট ফাঁকা, রাষ্ট্রীয় সর্বস্তরে নিজের লোক থাকার হুঙ্কার, প্রতীক হত্যা ধামাচাপাসহ আরও বেশ কিছু অভিযোগ উঠে এসেছে বেনামি এই শে^তপত্রে। অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘নৈতিকভাবে দুর্বল ও পদলিপ্সু কিছু মানুষের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ হলো এই শে^তপত্র। বেনামে এটি প্রকাশের মানে হলো আমার সামনে আসার নৈতিক সাহস তাদের নেই। আমি সপ্তাহে পাঁচদিন ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা করে অফিস করি। সেশন জ্যাম শূন্য করতে, ফল যথা সময়ে প্রকাশ করতে এবং র‌্যাগিং ও বিশৃঙ্খলামুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি অংশ বিশ^বিদ্যালয়ের হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে কিংবা ভাগ বসাতে এই অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তা ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে আপস করার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’

advertisement