advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যর্থ হয়ে জুয়ার আশ্রয়ে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৬
advertisement

দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে সরকার জুয়ার আশ্রয় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ সরকার সব কিছুতেই ব্যর্থ হয়ে এখন জুয়ার আশ্রয় নিয়েছে। জুয়া খেলে যদি কোনোরকমে টেকা যায়। কিন্তু এভাবে টেকা যাবে না। এটা হচ্ছে গণতন্ত্রের দেশ, গণতন্ত্রকামী মানুষের দেশ, স্বাধীনতা যুদ্ধ করা দেশ।

গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এ মানববন্ধন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন,

গত কয়েকদিনের খবরের কাগজ দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ জুয়াড়িদের দেশ হয়ে গেছে। এ সরকারকে আমি যদি বলিÑ এটা জুয়াড়িদের সরকার, তাতে আমার কোনো অপরাধ হবে কি? সম্পূর্ণভাবে এখন গ্যাম্বলারদের মধ্যে পড়ে গেছে, গ্যাম্বলিংয়ে চলে গেছে।

এ মুহূর্তে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা সব ব্যর্থতা নিয়ে পদত্যাগ করুন। অন্যথায় আপনাদের জনগণ এটা করতে বাধ্য করবে। তিনি বলেন, চিন্তা করতে পারেন! ছাত্রনেতা, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে বলেছেন, আপনার ৪০০-৫০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট আছে, এ থেকে আমাকেই দিতে হবে ৮৬ কোটি টাকা। সেটাকে বলছে ফেয়ার শেয়ার। সেটা নাকি তার ভাগ!

ফখরুল বলেন, ‘খবর বেরিয়েছে, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জিকে শামীম ৫০০ কোটি টাকার কাজ করছে। এটা সম্পূর্ণ সরকারের নির্দেশেই পায়। আওয়ামী লীগের ছোট, বড় ও পাতি নেতা তাদের দাপটে দেশে আর কেউ থাকতে পারছে না। সরকারি কর্মচারীরা চুপচাপ চলে যান মান-সম্মান, ইজ্জত নিয়ে। যা হুকুম করে তাই করতে হয়। চাঁদা দাও, নইলে যাও। টেন্ডার দাও, নইলে যাও। এই হচ্ছে অবস্থা।

ফখরুল আরও বলেন, অর্থনীতি নাকি মডেল হয়ে গেছে। সাংঘাতিক রোলিং অর্থনীতি। এমন মডেল হয়েছে, মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যাংকে গেলে টাকা নেই। দুই লাখ টাকার চেক নিয়ে গেলে বলবেÑ আজকে দেওয়া যাবে না, কালকে আসুন। ১০ লাখ টাকা তো প্রশ্নই ওঠে না। আর কী করছেন? যারা ঋণখেলাপি, তাদের ঋণ মাফ করে দিচ্ছেন। কারণ আপনাদের বড় বড় নেতা-মন্ত্রী-অ্যাডভাইজার হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, এই যে ক্যাসিনোতে বিদেশিরা চাকরি করে; তারা টাকা পাচার করে। গত এক বছরে ২৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। কানাডার বেগমপাড়াতে বাড়ি কিনে, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম কিনে, লন্ডনের সবচাইতে পশ এলাকা আছে, সেখানে বাড়ি কেনা হয়। আমরা সব খবরই রাখি। কে কত টাকা পাচার করছেন, কে কয়টি বাড়ি কিনছেন, কে কতগুলো ব্যবসা করছেন, সুইস ব্যাংকে কার কত টাকা জমা হচ্ছেÑ এ দেশের মানুষ সব খবরই রাখে।

ফখরুল বলেন, আমরা কোর্টে যাই জামিনের জন্য। বিচারপতি সব বক্তব্য শুনে চলে যান। বলেন, ‘পরে আদেশ দেব’। যখন ওপর থেকে নির্দেশ আসে পরে তিনি আদেশ দেন। এখন দেশে বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই। সরকার বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

advertisement