advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিষিদ্ধ পণ্য বহনকারী যাত্রীদের ফুটেজ মেলে না সিসিটিভিতে

মো. মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৬
advertisement

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টয়লেট ও ডাস্টবিন, বাংলাদেশ বিমান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফ্লাইটের টয়লেট, সিটের নিচসহ একাধিক স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে স্বর্ণ ও দামি মোবাইল। যাত্রীর লাগেজে পাওয়া যাচ্ছে সিগারেট। বিদেশে অবস্থানকালীন ব্যবহার্য জিনিসপত্র ঘোষণায় আনা এসব নিষিদ্ধ পণ্য। নিñিদ্র নিরাপত্তাবলয়ে ঘেরা বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত এসব স্বর্ণবার বা অন্যান্য পণ্য পাওয়া গেলেও এগুলো ফেলে যাওয়া যাত্রীর হদিস মিলছে না।

পুলিশ, সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যদের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হলেও এ পর্যন্ত কোনো চোরাকারবারিকে ধরা সম্ভব হয়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজে এসব ব্যক্তির হদিস না পাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে নেমেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এ জন্য তারা সহযোগিতা চেয়েছেন সরকারি বিভিন্ন সংস্থার।

চট্টগ্রাম কাস্টমের যুগ্ম কমিশনার নাহিদ নওশাদ মুকুল আমাদের সময়কে জানান, বিভিন্ন সময়ে ফেলে যাওয়া পরিত্যক্ত পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু কে বা কারা এসব ফেলে যায়, তাদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিমানবন্দরে সিসিটিভি থাকলেও ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। এখন নিষিদ্ধ পণ্য ফেলে যাওয়া ব্যক্তিদের ধরতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

চোরাচালান ঠেকাতে

কাস্টমসের আধুনিক যন্ত্রপাতি সংকটের কথা স্বীকার করে এ কর্মকর্তা আরও জানান, আমরা এখানে ঢাল-তলোয়ার ছাড়া কাজ করছি। এ জন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা ও চোরাচালানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চলছে সর্বাত্মক চেষ্টা।

তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যানেজার উইং কমান্ডার সরওয়ার-ই-জামান। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, সাধারণত টয়লেটের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্বর্ণবার পাওয়া যায়। সেখানে সিসিটিভি থাকে না। এ ছাড়া কাস্টমসের পক্ষ থেকেও সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি সংস্থার সিসিটিভি রয়েছে। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কোনো চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বর্ণ আটকের পর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়। মামলা হলে তা খতিয়ে বের করার দায়িত্ব পুলিশের। কিন্তু পুলিশ এ বিষয়ে অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করে থাকে।

পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়–য়া জানান, গত এক বছরে মাত্র একটি মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও মামলা করেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

গত ২৮ আগস্ট দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তিন যাত্রীর কাছ থেকে ৮১৪ কার্টন সিগারেট আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ওই তিন যাত্রী হলেন আবদুল কাদের মোল্লা, মো. ইয়াসিন ও মো. আসাদ। এর আগে ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের একই ফ্লাইটে আনা ৫৪৭ কার্টনে ১ লাখ ৯ হাজার ৪০০ শলাকা সিগারেট ও এমআই ব্র্যান্ডের ২০টি মোবাইল সেট পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে আসা দুটি ফ্লাইটের তিন যাত্রীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার মোবাইল সেট, সিগারেট ও মদ জব্দ করা হয়। এর দুদিন আগে ১৬ সেপ্টেম্বর জেদ্দা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের এক যাত্রীর কাছ থেকে ছয়টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। একই দিন কলকাতা থেকে বেসরকারি রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৭১টি মোবাইল ফোন সেট, মদ ও ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

advertisement