advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মিন্নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৬
advertisement

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ও চার্জশিটভুক্ত আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি সুপ্রিমকোর্টে তার আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল সকালে প্রথমে তিনি তার প্রধান আইনজীবী জেডআই খান পান্নার চেম্বারে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। এর পর সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন ও সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূনের চেম্বারে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী জেডআই খান পান্না

বলেন, ‘ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের বিষয় আছে। চার্জশিটের কথা তো আগাগোড়াই বলেছি, ওটা একটা মনগড়া উপন্যাস। মূলত মূল আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য এ ধরনের কারবার করা হয়েছে। নাথিং নিউ। জজ মিয়া এবং জাহালমের আরেকটা সংস্করণ।’ আদালতে মিন্নির দেওয়া জবানবন্দি প্রকাশের বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের এ আইনজীবী বলেন, ‘দেখেছি। আমি তো কোর্টে বসেই দেখেছি। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত যখন আমাদের দেখাতে দিতে বলেছিলেন, তখন এক নজর দেখেছি। সেটাও (১৬৪ ধারার জবানবন্দি) একটা উপন্যাস। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি কোর্টকে বলেছেনÑ এত সুন্দর করে লেখা, যা চিন্তার বাইরে। সুস্থ মাথায় এত সুন্দরভাবে কেউ লিখতে পারে না।’

এটা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেনÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পান্না বলেন, ‘আগেই করা হয়েছে। মিন্নি নিজে জেলখানা থেকে করেছে।’ জবানবন্দি গণমাধ্যমে চলে আসার বিষয়ে করা এক প্রশ্নে আইনজীবী বলেন, ‘এটা তো পুলিশের কাছে ছিল। সেখানটা বাদে তো আর আসতে পারে না। ইতিপূর্বেও আমরা দেখেছি এটা গণমাধ্যমে এসেছে। কোর্টের কাছে দেওয়ার পূর্বে এটা প্রকাশিত হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি। এটা আদালত অবমাননা।’

সাক্ষাতের পর মিন্নির বাবা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমাদের ঢাকায় আসার উদ্দেশ্য হলোÑ সিনিয়র আইনজীবী জেডআই খান পান্না স্যারের সাথে দেখা করা এবং তার কাছ থেকে আইনি পরামর্শ নেওয়া। দ্বিতীয়ত হলো মিন্নি অসুস্থ। তাকে রিমান্ডের নামে যে নির্যাতন করা হয়েছে, আজকে মিন্নি তারই ভয়াবহতায় ভুগছে। ওর হাঁটুতে ব্যথা। ওকে মারধর করা হয়েছে। ওকে জয়েন্টে জয়েন্টে পেটানো হয়েছে। তার পর মাথায় পিস্তল ধরেছে। ভয়ভীতি দেখাইছে। এর পর থেকেই ও বিষণœতায় ভুগতেছে। এ কারণে আমরা ডাক্তারের পরামর্শ নেব। ওর চিকিৎসা একান্ত প্রয়োজন। এ জন্যই ঢাকায় আসা।’ এর আগে শনিবার বিকালে মিন্নি ও তার বাবা বরগুনার আমতলী থেকে লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে মারা যান রিফাত শরীফ। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় প্রথমে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়। পরে এক আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। ১৭ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৫ আগস্ট মিন্নির বাবা হাইকোর্টে মিন্নির জামিন চেয়ে আবেদন করেন। গত ২৯ আগস্ট দুই শর্তে মিন্নির জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন হাইকোর্ট। শর্ত দুটি হচ্ছে-মিন্নি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না এবং তাকে তার বাবার জিম্মায় থাকতে হবে।

advertisement