advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিন্ডিকেটে ইলিশের দাম চড়া চাঁদপুরে

এমএ লতিফ চাঁদপুর
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৬
advertisement

কয়েক দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় সেই ইলিশে ঠাসা এখন চাঁদপুরের প্রধান মৎস্য আড়ত। গত দুদিনে ছয় হাজার মণের বেশি ইলিশ চাঁদপুর থেকে মোকামে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এত ইলিশ থাকার পরও দাম কিন্তু চড়া। সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল রবিবার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায় ইলিশের আমদানি প্রচুর। কিন্তু দাম খুবই চড়া। এক কেজি ওজনের প্রতি মণ ইলিশ ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সাইজের ইলিশের মণ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ ছোট আকারের ইলিশ কিনতে হলে কেজি পড়ছে ৫০০ টাকার ওপর। মধ্যম সাইজের ইলিশের কেজি ৭০০-৮০০ টাকা।

সাধারণ মানুষ ইলিশ কিনতে পারছে না। দাম শুনে অবাক হচ্ছে। চাঁদপুরের আড়তগুলোয় এত ইলিশের ছড়াছড়ি কিন্তু দাম কমছে না। বেশি আমদানিতে মাছের দাম না কমায় হতাশ সাধারণ মানুষ।

মাছঘাটে ইলিশ ক্রয় করতে আসা শিক্ষক মোরশেদ আলম ও ব্যবসায়ী আবদুল বারেক বলেন, ইলিশের আমদানি বেড়েছে জেনে ক্রয় করতে এলাম। এসে বুঝতে পারলাম আড়তদার, চালানি ও ঘাটের খুচরা বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে চাঁদপুরের ইলিশ সাম্রাজ্য। তিন ধরনের সিন্ডিকেটে চলে ঘাটে আসা পুরো ইলিশের ক্রয়-বিক্রয়। দেশের বড় বড় শহরের ডিপার্টমেন্টাল বিগ বাজার টেনে নিয়ে যাচ্ছে চাঁদপুরে আসা ইলিশগুলো। আড়তে ইলিশ ওঠার

কিছুক্ষণ পরই বাক্স ভর্তি হচ্ছে ইলিশ।

তারা আরও বলেন, শখ করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইলিশ কেনার জন্য ঘাটে এলেও উচ্চমূল্যে ইলিশ কেনা ছাড়া উপায় নেই। প্রশাসনের ইলিশ বাজার মনিটরিং না থাকায় ভরা মৌসুমেও দাম কমছে না ইলিশের। প্রচুর আমদানিতে সুফল পাচ্ছে না চাঁদপুরের মানুষ।

ভোলার চরফ্যাশন সামরাজ ঘাটের ইলিশ পাইকার নেয়ামত হোসেন জানান, প্রায় ৩০ মণ ইলিশ বাবুল হাজির আড়তে বিক্রি করেছেন। ভালো দাম পেয়ে তিনি খুশি। তিনি বলেন, গত তিন দিন দক্ষিণাঞ্চলের কালকিনি, ডালচর, সামরাজ, পাতিলা, মনপুরা, টুরকী এলাকায় জেলেরা ইলিশ পাচ্ছেন। এর আগে কিছুদিন ইলিশ পেয়েছিলেন হাতিয়ার সাগর জেলেরা। এখন পাচ্ছেন দক্ষিণের পটুয়াখালী, ভোলা ও বরিশালের জেলেরা।

চাঁদপুরের জেলে নেতা তছলিম বেপারি জানান, চাঁদপুরের জেলেদের কপাল মন্দ। ভাদ্র-আশ্বিনেও পদ্মা-মেঘনায় প্রত্যাশিত ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না জেলেরা। ছোট সাইজের ইলিশ পেলেও তাদের খরচ পর্যন্ত উঠছে না। ইলিশ না পেয়ে জেলার ৫১ হাজার জেলে পরিবার খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি জানান, চাঁদপুর মৎস্য আড়তে প্রচুর পরিমাণে সাগরের ইলিশের আমদানি হচ্ছে। কিন্তু দাম কমছে না। কারণ চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরা না পড়ায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন।

advertisement