advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আরেকটি ইতিহাসের অপেক্ষায়

মামুন হোসেন
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৩৫
advertisement

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সাল। দুই বছর আগে এই সেপ্টেম্বরেই ফুটবলে দারুণ এক ইতিহাস রচনা করেছিল বাংলাদেশের কিশোররা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত লাল-সবুজরা ম্যাচ জিতেছিল ৪-৩ গোলের ব্যবধানে। আজ একই আসরে আবারও ভারতের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পার্থক্য এতটুকু সেবার ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে লড়েছিল দুদল; এবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর এপিএফ স্টেডিয়ামে।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপের এটি তৃতীয় আসর। আগের দুই আসরেই ভারতের সঙ্গে দেখা হয়েছে বাংলাদেশের। সেখানে মিশ্র অভিজ্ঞতায় মাঠ ছেড়েছে দুদল। ২০১৫ সালে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু। সেবার সেমিফাইনালে দেখা হয় দুদলের। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখে ভারত। সাফের এই হারে দুদলের হার-জিত সমানে সমান। আজ তৃতীয় লড়াইয়েও জিততে চায় দুদল। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছে তারা।

আসরে এবার ‘বি’ গ্রুপ থেকে লড়ছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে লাল-সবুজরা। জয়ের ধারা ভারতের বিপক্ষেও অব্যাহত রাখতে চান বাংলাদেশের কোচ অ্যান্ড্রু পিটার টার্নার। ভারত ম্যাচ সামনে রেখে অ্যান্ড্রু বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) ভারতের বিপক্ষে আমাদের বিগ ম্যাচ। ম্যাচটি সামনে রেখে টেকনিক্যাল কিছু কাজ করা হচ্ছে। শ্রীলংকার মতো ভারতকেও হারাতে চাই আমরা।’

ভারতকে হারালেই আজ সেমিফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ। এমনকি ড্র করলেও। শেষ চারে যেতে ১ পয়েন্ট চাই ফাহিম, ফয়সালদের। ভারত জিতলে অপেক্ষা বাড়বে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে গিয়ে নির্ধারণ হবে তিন দলের সেমিফাইনাল ভাগ্য। এবার ছয় দলের টুর্নামেন্টে ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে মালদ্বীপ, ভুটান এবং স্বাগতিক নেপাল। গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন নেপালকে কাল ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জমিয়ে তুলেছে ভুটান।

‘এ’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের যে চিত্র তাতে ১ ম্যাচ করে জিতে সমান ৩ পয়েন্ট ভুটান ও নেপালের। মালদ্বীপের পয়েন্ট শূন্য। ‘বি’ গ্রুপে এক ম্যাচ জেতা বাংলাদেশের পয়েন্ট ৩। বাংলাদেশের কাছে হেরে ১ ম্যাচে পয়েন্টশূন্য শ্রীলংকা। ভারত আজ টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছে। পয়েন্টের খেরো খাতা খোলার অপেক্ষায় দলটি।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপ এলেই উঠে আসে বাংলাদেশ-ভারত সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথের কথা। যতদিন দুদলের ফুটবল থাকবে; ততদিন ম্যাচটি নিয়ে আলোচনা থাকবেইÑ এমন মত বিশ্লেষকদের। ওই ম্যাচের ৫৪ মিনিট পর্যন্ত ছিল ভারতীয়দের দখলে। ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোলটি করেন জাফর ইকবাল। প্রথমার্ধে ভারতের একাধিপত্য দ্বিতীয়ার্ধে রুখে দেয় বাংলার ছেলেরা। ৬০ মিনিটে রহমত মিয়ার গোলে ব্যবধান ৩-২-এ নামিয়ে আনে। মাহাবুবুর রহমান সুফিলের গোলে ৭৪ মিনিটে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ (৩-৩)।

টানা তিন গোল খেয়ে নড়েচড়ে বসে ভারত। রক্ষণে শক্তি বাড়িয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের রক্ষণে কাঁপন ধরাতে ব্যর্থ হয়। ২০১৫ সালের মতো আবারও যখন টাইব্রেকারে গড়ানোর শঙ্কা জাগে; সেই শঙ্কা-সংশয় শেষ মুহূর্তের ইনজুরি সময়ে গুঁড়িয়ে দেন জাফর। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৪-৩ গোলের ঐতিহাসিক জয় এনে দেন। ওই ম্যাচে তিন গোলদাতা জাফর, রহমত এবং সুফিল আজ দেশের শীর্ষ ক্লাবের অংশ, দেশের শীর্ষ তারকা। বয়সভিত্তিক পেরিয়ে জাতীয় দলেও খেলা হয়ে গেছে তাদের।

এবার ভারতকে হারিয়ে ফাহিম, ফয়সাল, বাপ্পি, রাকিবদের নায়ক হওয়ার পালা! ভুটানের পর নেপালে নতুন ইতিহাস রচনার পালা।

advertisement