advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান নেই

নজরুল মৃধা রংপুর
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৩৬
advertisement

রংপুর-৩ সদর আসনের উপনির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। নির্বাচন কমিশন থেকে বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো নির্দেশনা এখনো পায়নি জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। সেই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু না হওয়ায় নির্বাচনে সংঘাতের আশঙ্কাও দেখছেন তারা। এ অবস্থায় নির্বাচনের আগে সব ধরনের বৈধ অস্ত্র জমাদানের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন প্রার্থী ও রাজনীতিবিদরা।

তথ্যমতে, রংপুরে লাইসেন্সধারী শতাধিক অস্ত্র রয়েছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষে এসব বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হতে পারে। ঘটতে পারে প্রাাণহানিসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। এ কারণে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীসহ রাজনীতিবিদরা। তারা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে যদি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু না হয়, তা হলে নির্বাচনের দিন পেশি শক্তির ব্যবহার হতে পারে। সেই সঙ্গে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো পক্ষ প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ফলে নির্বাচনের আগে বৈধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

একটি সূত্র জানিয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে বৈধ অস্ত্র জমাদানের নির্দেশনা দেওয়া থেকে বিরত ছিল নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচনের ৭ দিন আগে সকল প্রকার বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ ছিল। একাধিক রাজনীতিবিদের অভিযোগÑ একাদশ সংসদ নির্বাচনে বৈধ অস্ত্র জমা না নেওয়ায় অনেক স্থানেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আগামী ৫ অক্টোবর প্রয়াত এরশাদের শূন্য আসনে উপনির্বাচন। বিএনপি বাদে অন্য প্রার্থীরা সকলেই আশা করছেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। তবে বৈধ অস্ত্র জমা না দিলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে এমনটা মনে করছেন অনেকে।

বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আসিফ আহসান জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন অফিস থেকে কোনো চিঠি পাননি তারা। চিঠি পেলেই বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম শাহতাব উদ্দিন জানান, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি। নির্দেশনা এলেই অস্ত্র জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলতাফ হোসেন বলেন, ঘোষণা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামা ঠিক না। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যা যা করণীয় দরকার, তা-ই করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান চলমান রয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার বলেন, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পড়ে। সরকার ইচ্ছা করলে বৈধ অস্ত্রের পাশাপশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারে। এটা করা জরুরি বলে মনে করে তিনি বলেন, আমার জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ। আমার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কেউ পেশি শক্তি ব্যবহার করতে পারে। তবে তিনি আশাবাদী, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির রিটা রহমান খুব দ্রুত বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রচারে আমাকে যেভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তাতে নির্বাচনের গোলযোগের আশঙ্কা করছি। আমি এ বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নির্বাচন অফিসে জানাব।

গণফোরাম জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আমরা বিএনপি জোটে ছিলাম। এবার বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে গণফোরাম থাকবে কিনা এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। অস্ত্র জমাদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই দ্রত বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।

এদিকে নির্বাচনি মাঠ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, দুই ভাই আসিফ শাহরিয়ার ও সাদ এরশাদের মাঝে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে বিএনপি প্রার্থী জোটের অন্য শরিকদের মাঠে নামাতে পারলে তিনিও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেন, এমনটা মনে করছেন ভোটাররা।

advertisement