advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দূরে থাকলে নিরাপদ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৩৭
advertisement

আরব উপসাগর থেকে বিদেশি বাহিনীগুলোকে দূরে সরে যেতে বলেছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, এই বিদেশি শক্তিগুলোই উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ‘তোমরা যত দূরে থাকবে, তত নিরাপদ থাকবে।’

সৌদি আরবে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান থেকে দ্বিতীয় দফায় এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল। রুহানির আগে দেশটির বিপ্লবী বাহিনী হুমকি দিয়ে বলেছেÑ ইরান জবাব দিলে শত্রুশিবিরের বাঁচার কোনো জায়গার চিহ্নই থাকবে না।

বিবিসি জানায়, ১৯৮০-৮৮ সাল পর্যন্ত চলা ইরান-ইরাক যুদ্ধের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার ভাষণ দিচ্ছিলেন রুহানি। এ সময় তিনি বলেন, বিদেশি শক্তিগুলো সবসময় ‘ব্যথা ও দুর্দশা’ নিয়ে এসেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে তাদের ‘অস্ত্র প্রতিযোগিতা’য় ব্যবহৃত হতে দেওয়া উচিত হবে না।

মনুষ্যবিহীন উড়োযান (ড্রোন) দিয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানি আরামকোর আবকাইক ও খুরাইস তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয় ১৪ সেপ্টেম্বর। আবকাইকের তেল শোধনাগারটি বিশ্বের বৃহত্তম এবং খুরাইস হচ্ছে সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেলক্ষেত্র। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। তবে তাদের এত উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি নেই এবং হামলা যেদিক থেকে এসেছেÑ এসব বিবেচনায় নিয়ে মার্কিন প্রশাসন ও সৌদি আরব দাবি করছে, এ হামলা আসলে ইরানই চালিয়েছে। যদিও তেহরান ওই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর আগে উপসাগরে বিদেশি তেল ট্যাংকারের বিস্ফোরণ এবং জাহাজ ও ক্রু আটক করা কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের টানাপড়েন শুরু হয়। সৌদি আরবে হামলার পর সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

রুহানি বিদেশি শক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা যদি আন্তরিক হয়, তা হলে তাদের উচিত হবে না আমাদের অঞ্চলকে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বানানো। আমাদের দেশগুলো এবং এ অঞ্চল থেকে তোমরা (বিদেশি শক্তি) যতখানি দূরে থাকবে, এখানে ততখানি নিরাপত্তা থাকবে।’ রুহানি জানান, ইরান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এ বছরের অধিবেশনেই উপসাগরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দেবে। তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদার করতে চায় বলেও ভাষণে উল্লেখ করেছেন রুহানি। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে হুতিদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। তারাও পাল্টা জবাব দিতে সৌদি আরবের ওপর নানা সময় ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়ে আসছে।

advertisement