advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যাংক ঋণ হ্রাসে কমছে নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা

গোলাম রাব্বানী
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৫১
advertisement

এসএমই খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের সংখ্যা ও ব্যাংক ঋণ দুটোই কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে এক বছরের ব্যবধানে নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা কমেছে ১৩ হাজার ৬৫০ জন। আর গত ছয় বছরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে মেয়াদি ঋণের পরিমাণ কমে হয়েছে ৩১ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশ; মাঝারি শিল্প-কারখানা কমে হয়েছে অর্ধেকÑ যার তীব্র প্রভাব পড়েছে সরকারের নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির পরিকল্পনায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক ঋণ পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৩৫০ নতুন উদ্যোক্তা। এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। অথচ ২০১৮ সালের একই সময়ে ব্যাংক ঋণ পেয়েছিলেন ৭৯ হাজার নতুন উদ্যোক্তা, টাকার অঙ্কে যা ছিল ১৩ হাজার ২৯০ কোটি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক ঋণ পাওয়া নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা কমেছে ১৩ হাজার ৬৫০। আর ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসে ৭৫ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে বিতরণ করা হয় ১১ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলো মোট এসএমই ঋণের মধ্যে ব্যবসা উপখাতে ২ লাখ ৭৯ হাজার উদ্যোক্তাকে ৩৪ হাজার ২১২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে ২ লাখ ৮১ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ দেখানো হয়েছিল। সে হিসাবে এবারে শুধু ব্যবসায় ঋণ কম দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বিপণন এখন এক ধরনের নেটওয়ার্কের মধ্যে চলে গেছে। যেখানে বড় উদ্যোক্তারা পুরো নেটওয়ার্ক নিজেদের মতো করে নেন, মাঝারিদের পক্ষে সেটা সম্ভব হয় না। তবে উৎপাদন ও সেবা উপখাতে ঋণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উৎপাদনশীল খাতে ২৮ হাজার ৮২০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ বেড়েছে। সেবা উপখাতে এবার ১৬ হাজার ৯৫১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে তা ছিল ১৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা দুই হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা বেশি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে জিডিপির অবস্থা অনুসারে ২৭ থেকে ২৮ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু তা ২৩.৪ শতাংশেই আটকে রয়েছে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগের হার একটা ফাঁদে আটকে গেছে। বিনিয়োগ যদি উল্লেখযোগ্য হারে না বাড়ে, তা হলে কর্মসংস্থান হয় না। প্রকৃত মজুরি বাড়ে না। আবার বাংলাদেশে বিনিয়োগ নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়া, কিছু ধনী ও প্রভাবশালীদের মধ্যে সবকিছু ধরে রাখার প্রবণতা থেকেও এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা থেকে অচিরেই উত্তরণ প্রয়োজন।

advertisement