advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মান বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা করে এগোতে হবে

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:০২
advertisement

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের মেয়েরা দারুণ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। গ্রুপ পর্বের তিনটি খেলার প্রথম দুটিতে হারলেও গ্রুপের শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সমান তালে খেলে ড্র করেছে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বমানের দল, তাদের র‌্যাংকিং ৮, আর বাংলাদেশ দলের র‌্যাংকিং ১২২। এ থেকেই ফুটবলে মানের পার্থক্য ধরা পড়ে। তা ছাড়া এর আগের ম্যাচেই মারিয়া-তহুরারা জাপানের কাছে ৯-০ গোল ব্যবধানে উড়ে গিয়েছিল। তবে টুর্নামেন্টের প্রথম খেলায় তারা থাইল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হলেও ম্যাচটি ড্র করার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দল সবটা উজাড় করে খেলে দুবার এগিয়ে গিয়েছিল এবং শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিত পরাজয়ের সম্ভাবনায় ধুঁকছিল। বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল এবং খেলার ৭৬ মিনিট পর্যন্ত এই অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছিল। ওই সময় অস্ট্রেলিয়া সমতা ফেরালেও আবারও ম্যাচে তহুরার দ্বিতীয় গোলে বাংলাদেশ দল এগিয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখা যায়নি, অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলটি সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়।

র‌্যাংকিংয়ে ১১৪ ধাপ এগিয়ে থাকা বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে জয়ের কাছাকাছি যাওয়া, আগাগোড়া ম্যাচে সমান তালে লড়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত ড্র করে শেষ করা নিশ্চিতভাবেই গৌরবজনক অর্জন। অভিজ্ঞজনরা এ ফলকে বাংলাদেশ ফুটবলের এ পর্যন্ত সেরা বলছেন। বস্তুতপক্ষে এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কেবল ভারত এযাবৎ একটি জয় নিয়ে ফিরেছে। বাংলাদেশ দল সে হিসেবে চমৎকার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। আমরা এই কৃতিত্বের জন্য মারিয়া-তহুরাদের অভিনন্দন জানাই।

বাংলাদেশে এক সময় ফুটবলই ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কিন্তু পুরুষদের খেলার মান পড়ে যাওয়া, ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকা এবং টেলিভিশনে বিশ্বের সব উন্নত লিগ ও টুর্নামেন্টের খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ ঘটায় দেশীয় খেলার আকর্ষণ হারিয়ে গেছে। একমাত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য, নিজেদের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টির মতো ক্ষমতা অর্জিত হলেই মানুষ সে খেলার প্রতি মনোযোগী হবে। মারিয়াদের এবারের খেলায় সেই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এ মান ধরে রেখে আরও এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি ছেলেদের মূল দল ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের মান বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে। আর্চারিতে রোমান সানার সাফল্যে বোঝা যায় ব্যক্তিগত প্রতিভা ও দক্ষতায় আমাদের ছেলেমেয়েরা পিছিয়ে নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দলগত খেলাতেও এগিয়ে নিতে হবে। একটি ক্রীড়াকুশল জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশে সম্ভব হলে মাদকসহ অনেক সমস্যা এমনিতেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াপ্রেমী, তার সময়ে খেলাধুলায় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ঘটবে না। কেবল সংগঠক ও প্রশিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে।

advertisement