advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

১১ বধ্যভূমিতেই স্মৃতিসৌধ রক্তঝরা একাত্তর : সাঁথিয়া

আবু ইসহাক সাঁথিয়া
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:১৪
advertisement

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে একাত্তরের গণকবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও মেরামত প্রকল্পের আওতায় পাবনার বিভিন্ন উপজেলায় ১৮টি বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দেয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। জেলার ১৮ বধ্যভূমির মধ্যে ১৩টিই সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। এর মধ্যে ১১টি গণকবরস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ।

উপজেলা এলজিডির অধীন ওই ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৯৩ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলো হচ্ছে উপজেলার হাসানপুর ১০ মুক্তিযোদ্ধার গণকবর, শহীদনগর ডাব বাগান গণকবর, করমজা গণকবর, কাবারিকোলা গণকবর, আড়িয়াডাঙ্গী গণকবর, নাগডেমরা গণকবর, চৈত্রহাটি গণকবর, এনমনোহরগাতি গণকবর, ধুলাউড়ি গণকবর, বাউশগাড়ী গণকবর ও মাধপুর মাওলানা কসিমুদ্দিন গণকবর।

একাত্তরে বাউশগাড়ীতে ঘটে জেলার সবচেয়ে নারকীয় ঘটনা। এখানে পাকিস্তানি বাহিনী ও তার সহযোগীরা মুক্তিযোদ্ধা এবং নিরীহ বাঙালিসহ প্রায় ৯০০ জনকে গুলিতে হত্যা করে। পরে এলাকাবাসী সবার লাশ একই স্থানে দাফন করেন। এটি বাউশগাড়ী গণকবর নামে পরিচিত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে স্মৃতিসৌধগুলো একে একে উদ্বোধন করছেন। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসব অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, এলাকার সুধীজন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকছেন।

সাঁথিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শহিদুল্লাহ জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও মেরামতের ১১ প্রকল্পের কাজ চলতি বছর জুনে শেষ হয়। দুটি বধ্যভূমি নদীতে ভেঙে যাওয়ায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। স্মৃতিসৌধগুলো নির্মাণের ফলে বছরের পর বছর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা জাতি লালন করবে বলে মনে করেন তিনি।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হালিম জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই স্মৃতিসৌধগুলো নির্মাণ করা হয়েছেÑ যাতে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে।

advertisement