advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাসপাতালে রোগীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ

নীলফামারী প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:১৪
advertisement

রোগীর শরীরে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশ করাকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর সিভিল সার্জনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করায় অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছেন। এর আগেই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালের মেডিসিন স্টোর সিলগালা করা হয়।

সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১০টায় শহরের নতুন বাজার কলোনি এলাকার আবদুল ওহাবের স্ত্রী মল্লিকা বেগমকে (৫০) অসুস্থ অবস্থায় সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এ সময় জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় উপস্থিত কর্মচারীরা মল্লিকা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওয়ার্ডে পাঠান। ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র নার্স কল্পনা রানী দাস ও ছায়া রানী রোগীকে স্যালাইন পুশ করেন।

এদিকে রাত ১২টার দিকে রোগীর অবস্থার অবনতি হয়। তখন রোগীর লোকজন দেখেনÑ স্যালাইনটি মেয়াদোত্তীর্ণ। ততক্ষণে স্যালাইনের বেশির ভাগই শরীরে পুশ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বরত নার্সের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের বাগ্বিত-া শুরু হয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি প্রথমে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করে। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। একই সময়ে ২০ থেকে ২৫ রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন শরীরে পুশরত অবস্থায় পায় জেলা প্রশাসন। হাসপাতালের স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ আরও ওষুধ ও স্যালাইন রয়েছেÑ এমন অভিযোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতেই মেডিসিন স্টোর সিলগালা করা হয়।

এদিকে গতকাল রবিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে রোগীর লোকজনের সঙ্গে এলাকার শত শত মানুষ এক হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সিভিল সার্জন ও সিনিয়র নার্স কল্পনা রানী দাসের অপসারণ ও বিচারের দাবি জানিয়ে সিভিল সার্জন দপ্তর অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় উত্তেজনা দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্তণে আনেন।

এ ব্যাপারে নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. রণজিৎ কুমার বর্মণ বলেন, ঘটনা তদন্তে ডা. এএসএম রেজাউল করিমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

advertisement