advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্রেক্সিট নিয়ে জনসনও নাকাল
সংকটে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০৫
advertisement

গণতন্ত্রের সূতিকাগারে সংকটের মধ্যেও গণতন্ত্রের যে অভাবনীয় বিজয় ঘটে চলেছে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখা দরকার। কারণ আমরা গণতন্ত্র চর্চার কথা বললেও তার মান এখনো অনেক নিচে রয়েছে আধুনিক গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত গ্রেট ব্রিটেনে রাজনৈতিক সংকট গভীরতর পর্যায়ে গেছে। সে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সংসদে রানির বার্ষিক বক্তৃতার আগে সরকারের প্রস্তুতির লক্ষ্যে পাঁচ সপ্তাহের জন্য পালার্মেন্ট স্থগিত করার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। গত সোমবার সে দেশের সুপ্রিমকোর্ট এ সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। সর্বোচ্চ আদালতের ১১ জন বিচারক সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এ রায় দিয়েছেন। এর ফলে বরিস জনসনের সরকারের নৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেল এবং বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।

তিন বছর ধরে ব্রিটেনের সরকার ও পার্লামেন্ট ব্রেক্সিট কার্যকর করা নিয়ে রীতিমতো টানাপড়েনে রয়েছে। ব্রেক্সিট ইস্যুতে গণভোটে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে গিয়ে ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। কারণ তিনি এর বিপক্ষে ছিলেন এবং আশা করেছিলেন গণভোটে ব্রিটেনবাসী তার পক্ষে থাকবে। কিন্তু কট্টর জাতীয়তাবাদীদের প্রচারণায় ব্রিটেনের সাধারণ জনগণ কিছুটা বিভ্রান্ত হওয়ায় সামান্য ব্যবধানে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে রায় আসে। ফলে ব্রেক্সিট কার্যকরের দায়িত্ব নিয়ে ক্যামেরনের উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন রক্ষণশীল দলের নেত্রী তেরেসা মে। তিন বছর ধরে ব্রাসেলস ও লন্ডনে বারবার দূতিয়ালি ও দেনদরবার করেও তিনি লক্ষ্য হাসিল করতে পারেননি। ব্যর্থতা নিয়েই গত জুলাইয়ে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এবারে ক্ষমতায় আসেন ব্রেক্সিটের পক্ষে সোচ্চার নেতা ও পেছনে কলকাঠি নাড়ার প্রধান কুশীলব বরিস জনসন। তিনি জনমত ও পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করেই চুক্তিভিত্তিক বা চুক্তিবিহীন যে কোনো উপায়ে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েই সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন। কিন্তু তার দলের অনেক এমপি ও সদস্য এবং বিরোধী দল ও জনগণের বড় অংশ চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পক্ষে নয়। ফলে বরিসের কৌশল কাজে লাগেনি। তবু এখন তিনি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাপকাঠিতে পরাজিত একজন ব্যক্তি।

প্রশংসনীয় বিষয় হলো, গভীর সংকটের মধ্যেও সংসদের উভয় কক্ষÑ হাউস অব কমন্স ও হাউস অব লর্ডস এবং সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও ধারা রক্ষায় শক্ত ভূমিকায় রয়েছে, ব্যক্তির খেয়াল ও সুবিধা পূরণের হাতিয়ার হয়নি। আবার জনসনকেও কোর্টের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেও তা মেনে নেওয়ার এবং সে অনুযায়ী কাজ করার ঔদার্য দেখাতে হয়েছে। এখানেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মূল্যবোধের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠতা। গণতন্ত্রের সূতিকাগারে সংকটের মধ্যেও গণতন্ত্রের যে অভাবনীয় বিজয় ঘটে চলেছে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখা দরকার। কারণ আমরা গণতন্ত্র চর্চার কথা বললেও তার মান এখনো অনেক নিচে রয়েছে।

advertisement