advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শুভ জন্মদিন : সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশের বাতিঘর

ড. মুহম্মদ মনিরুল হক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০১ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:৫০
advertisement

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ২০১৮ সালে বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে।’ চলতি মাসে এডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, মানুষের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্র, কাঙ্ক্ষিক জীবনমান ও গড় আয়ু বেড়েছে। অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সূচকেই বাংলাদেশের অগ্রগতি হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমি মুগ্ধ, শেখ হাসিনার কাছে বিশ্ববাসীর অনেক কিছু শেখার আছে।’

যার উদ্ভাবনী চিন্তা ও সম্মোহনী নেতৃত্বের গুণে বিশ্বের নেতৃত্ব-ব্যক্তিত্ব-সংস্থা সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশের কথা বলছেন, তার নাম ‘শেখ হাসিনা।’ তিনি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা। তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতিও পেয়েছেন।

জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রায় অর্ধশত পুরস্কার ও স্বীকৃতি বয়ে এনেছেন। তিনিই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী, যিনি বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে সফলতা অর্জন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, সাহস ও প্রেরণায় দেশের অর্থে নির্মিতব্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা মেলে ধরার পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার চেতনাকে উদ্দীপ্ত করেছে। তার আদর্শ, শাসন, স্নেহ ও সান্নিধ্যে অনেক আমলা, রাজনীতিবিদ সৎ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়েছেন। অতি সম্প্রতি তার কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলার পথকে প্রশস্ত করছে।

১৯৪৭ থেকে এ পর্যন্ত শেখ হাসিনার জীবন, কর্ম, চিন্তা, চেতনা, দর্শন ও মানসগঠনে রয়েছে ঐতিহাসিক ব্যক্তি, ঘটনা ও নির্বাসিত জীবনের প্রভাব। উপরন্তু, তার চারিত্রিক দৃঢ়তা, গভীর অধ্যায়ন, জানা-শোনা-দেখা ও পরিশ্রম তার অন্তর্দৃষ্টিকে প্রখর করেছে। এ কারণেও তিনি শিক্ষা-দীক্ষা, চিন্তা-চেতনা, মেধা-প্রজ্ঞা এবং সমৃদ্ধ ও মানবিক বাঙালির দেশিকোত্তম ব্যক্তি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম সময় ও বিশ্বের ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদী নারী শাসকের অন্যতম হয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাদাসিধে, পরিচ্ছন্ন ও সৎ বাঙালির জীবনযাপন করেন। পিপলস অ্যান্ড পলিটিকসের গবেষণায় বিশ্বের পাঁচজন সৎ সরকার প্রধানের তালিকায় তিনি অন্যতম। প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘বাংলাদেশের বাইরে শেখ হাসিনার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। বেতন ছাড়া তার সম্পদের স্থিতিতে কোনো সংযুক্তি নেই। তার কোনো গোপন সম্পদ নেই। বাংলাদেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ মনে করে, শেখ হাসিনা সৎ এবং ব্যক্তিগত লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে।’

যেখানে বঙ্গবন্ধুর দর্শন বাস্তবায়নের অসমাপ্ত বেদনার অঙ্গীকার, সেখান থেকেই ২৮ বছর বয়সে মা-বাবা-ভাই হারানো শেখ হাসিনার মানবসেবা ও উন্নয়নের সূত্রপাত। তিনি রাজনীতির এক বড় শিল্পী, অবিসংবাদিত নেতা, প্রভাবশালী নিয়ামক, জীবন্ত এক কিংবদন্তী। স্বদেশের সব জাতীয় বীরের আদর্শ, সাহস ও শৌর্যকে আত্মস্থ করে তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক। তার দর্শন ও সেবার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ইতিবাচক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের পরিবর্তন। এ প্রত্যয়ে তিনি বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে নিরন্তর উদ্যোগ, উৎকণ্ঠা, ভালোবাসা ও ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছেন।

অসহায়, এতিম, বৃদ্ধ, নারী-শিশু কবি-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি ও সরকারি প্রকল্পগুলো প্রশংসিত হচ্ছে। তাইতো নেলসন ম্যান্ডেলা বলেছেন, ‘মানুষের প্রতি শেখ হাসিনার ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার নেতৃত্বের অসাধারণ গুণ হলো নিপীড়িত, বঞ্চিত, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’

শেখ হাসিনা যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, সে স্বপ্ন বাংলাদেশের মানুষকেও দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের উন্নয়নের সূত্র-নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে উদ্দীপ্ত করেছে। তাঁর উদ্যোগে ১৯৯৭ সালের ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ মানবিক বাংলাদেশের নবদিগন্তের সূচনা করেছে। ২০১৫ সালে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে ৬৭ বছর মানবেতর জীবন যাপনকারী লাখ লাখ অধিবাসীকে তিনি নতুন ঠিকানা দিয়েছেন। তার ‘শান্তির সংস্কৃতি’ এবং ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ প্রস্তাব জাতিসংঘের অধিবেশনে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে পাস হয়েছিল ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ২০১৭ সালে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে মানবিক মানুষের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ‘শেখ হাসিনা : দ্য মাদার অব হিউম্যানিটি‘ শিরোনামে স্টোরি করেছে ইউরোপের ম্যাগাজিন ‘ডিপ্লোম্যাট।’

মহৎ অর্জনের জন্য ভোগ নয়, ত্যাগ দর্শনের নীতিতে বিশ্বাসী শেখ হাসিনার ‘উদ্ভাবনী আইডিয়া’ জলবায়ু পরিবর্তনে বিপদগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর ক্ষতিপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও বেঁচে যাওয়া, অজস্র বাধা অতিক্রম করে শেখ হাসিনা একের পর এক সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। বিশ্বের সকল মানবিক উদ্বেগ ঠাই করে তার ভেতর। সেই অর্থে তিনি স্বভূমিতে শক্ত পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা বৈশ্বিক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিস¤পন্ন এক মহান ব্যক্তিত্ব। বাংলার মানুষের ক্ষোভ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, অপমান, জেদ, অহং, সংযম, স্বপ্ন, প্রতিরোধ, সংকল্প-সবকিছুই যেন সমন্বিতভাবে বেজে উঠছে তার আচার-আচরণ, চলন-বলন ও কর্মে।

সাধারণ মানুষের এই বিশ্বাস জন্মেছে যে, প্রধানমন্ত্রী সৎ ও যোগ্য শাসক। সমাজের বৃহত্তর ঐক্যের প্রতীক। তিনি হাসলেই বাংলাদেশ হাসে। তিনিই মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের বাতিঘর। তিনিই দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলার ভরসা। শেখ হাসিনা সুস্বাস্থ্যে দীর্ঘায়ু হবেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে তার নিরন্তর উদ্যোগ-স্বপ্ন, পরিশ্রম সার্থক রূপ পাবে, সে কামনায় জানাই শুভ জন্মদিন।

ড. মুহম্মদ মনিরুল হক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক

Email : dr.mmh.ju@gmail.com

advertisement