advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাসেলের নির্দেশেই ধরে নেওয়া হয়

রহমান জাহিদ ও মেহেদী হাসান
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ (২২) হত্যা মামলায় ১০ শিক্ষার্থীর ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে? আদালত। তাদের সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবীর হোসেন হাওলাদার আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। এদিকে গতকাল

ফাহাদ হত্যা মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে ন্যস্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে এজহারভুক্ত আরও ৩ আসামিকে। এ নিয়ে ১৯ আসামির ১৩ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান রাসেল ছিলেন হত্যাকা-ের মূল ভূমিকায়। তার নির্দেশেই ফাহাদকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এর ফলে মৃত্যু হয় মেধাবী এই শিক্ষার্থীর। শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে আবরার ফাহাদকে নির্যাতনে হত্যা করা হয়। ওই রুমে ৪ জন থাকতেন। তাদের মধ্যে অমিত সাহাও রয়েছেন। কিন্তু তাকে মামলার আসামি না করায় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, তদন্তে অমিত সাহা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশ এও বলছে, ঘটনার সময় অমিত সাহা হলেই ছিলেন না। ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার কোনো ছবি আসেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা পুলিশের এ বক্তব্য মানতে নারাজ। তারা বলছেন, অমিত সাহাও জড়িত।

আদালত ও পুলিশের তদন্তকারী সূত্রগুলো বলেছে, ঘটনার রাতে আবরার ফাহাদ হলের ১০১১ নম্বর নিজ কক্ষে পড়ালেখা করছিলেন। রবিবার রাত ৮টার দিকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের নির্দেশে ছাত্রলীগের সদস্য মুনতাসির আল জেমি এবং তানিম ফাহাদকে ডেকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। ওই কক্ষে আগে থেকেই ছিলেন মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ। সেখানে তারা ফাহাদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করেন। তার ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ঘেঁটে তাকে শিবিরের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। এর পরই ওই দুই নেতার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন তাকে মারধর শুরু করেন। লাঠিসোটা ও হকিস্টিক দিয়ে বেদম মারধর করা হয় ফাহাদকে। এর আগে ৩ অক্টোবর একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে তাকে ২০১১ নম্বর রুমে ডেকে সতর্ক করেছিলেন শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক এবং পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা।

গতকাল রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন, উপ-সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল, ছাত্রলীগ কর্মী মুনতাসির আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির এবং গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না। ওই ঘটনার পরই তাদের বুয়েট ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এদের মধ্যে ইশতিয়াক ছাড়া বাকি সবাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের জিআরও এসআই মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

অন্যদিকে ১০ আসামির মধ্যে মুজাহিদ, ইশতিয়াক, সকাল ও তানভিরের পক্ষে আইনজীবী শামীমুর রহমান, মোরশেদা খাতুন লিল্পী ও মো. আমিরুল ইসলাম রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জামিনের আবেদন করেন।

ইসতিয়াক, সকাল ও মুজাহিদের আইনজীবী দাবি করেন, তাদের মক্কেলরা ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। ইসতিয়াক ঘটনার সময় কুমিল্লায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। তানভীরের আইনজীবী বলেন, ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী ভানভীর নিহত ফাহাদকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন দেখা যায়। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত। শুনানিকালে অন্য ৬ আসামির পক্ষে আইনজীবী ছিল না।

১০ আসামির অধিকাংশই ইতোমধ্যে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ফাহাদকে হত্যার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। তাকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করে মো. অনিক সরকার ও মেহেদী হাসান রবিন। তারাও পুলিশের কাছে মারধরের কথা স্বীকার করেছে।

গত সোমবার রাতে ফাহাদ হত্যায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা বরকত উল্লাহ ঢাকার চকবাজার থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় গতকাল আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তারা হলেন শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির ও মো. আকাশ।

ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, গতকাল বিকালে রাজধানীর ঝিগাতলা থেকে রাফাত, ডেমরা থেকে মনির ও সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুরের বাইপাল থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তভার গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

advertisement