advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উত্তাল বুয়েট বিক্ষুব্ধ দেশ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০২:৪৬
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার জেরে ক্ষোভের অনল জ্বলছে প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ শিক্ষার্থীর মধ্যে। ছাত্রলীগ নেতাদের বেদম পিটুনিতে ফাহাদের মৃত্যু তাদের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেছে; প্রতিবাদে পথে নেমেছেন তারা। বুয়েট শিক্ষার্থীদের এ আগুনের উত্তাপ লেগেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। দেশের বেশকিছু জেলায় অনেক সাধারণ মানুষও বিবেকতাড়িত হয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন, বিক্ষোভ করেছেন।

আবরার ফাহাদকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। তারা পাশবিক এ হত্যাকা-ে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছে। এ হত্যায় তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট। আবরার ফাহাদসহ সব হত্যাকা-ের বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট ক্যাম্পাসে গতকাল সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এছাড়া টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গতকাল সমাবেশের আয়োজন করে। এ সময় ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুর ১২টায় টিএসসিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গণজমায়েতের ডাক দিয়েছেন এবং এ জমায়েতে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে গতরাতে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গতকাল মঙ্গলবার রাতের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল আছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার সকাল ১০টায় তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাদের দাবি-দাওয়ায়ও কিছুটা পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একাধিক শিক্ষার্থী গতরাতে জানান, রাতের মতো তারা আর অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন না। তবে পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় তারা আবার জড়ো হবেন। তারা আরও জানান, বুয়েট উপাচার্য তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যথার্থ জবাব দেননি। তাই তাদের দাবিতে কিছু পরিবর্তন আসবে, যা কাল (আজ) জানানো হবে। যদিও আপাতত তারা তারা খুলে দিচ্ছেন উপাচার্যের কার্যালয়ে তাদের ঝোলানো তালা।

এদিন সকাল থেকেই বুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বুয়েটের সব ক্লাস-পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করার ঘোষণ দেন। পথে নামা এসব সাধারণ শিক্ষার্থী বলছেন, রাতের মতো বাড়ি ফিরে গেলেও আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা পথেই থাকবেন।

বিক্ষোভকারী বুয়েট শিক্ষার্থীরা গতকাল প্রতিষ্ঠানটির শহীদ মিনারের বেদিতে সমবেত হন। এর পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা আবরার ফাহাদের খুনিদের বিচার দাবি করেন এবং আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে-খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা; ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খুনিদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা; আবাসিক হলে র‌্যাগ ও ভিন্নমত দমনের নামে নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা; হত্যাকাণ্ডের ৩০ ঘণ্টা পরও বুয়েট ভিসি কেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি তা ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যাখ্যা করা (গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়); আবরার ফাহাদের হত্যা মামলাসংক্রান্ত ব্যয়ভার বুয়েট কর্তৃপক্ষের বহন করা; ইতিপূর্বে যেসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সেসবের বিচার করা; ফাহাদকে যে হলে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, সেই শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে প্রত্যাহার করা এবং বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা। এ ছাড়া বুয়েটে সব ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করতে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের এসব দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে এলে আন্দোলনকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি তোলা হলে প্রথমে তিনি নিরুত্তর থাকেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে অধ্যাপক মিজানুর রহমানও বলেন, আমি মনে করি, বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই। আমাদের বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন নেই।

এদিকে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মাসুদ। গতকাল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানাতে এসে তিনি বলেন, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার অভাবে এহেন দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছি এবং হত্যাকা-ে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

ভর্তি পরীক্ষা বানচালের হুমকি : ৮ দফা দাবি না মানলে ১৪ অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা বানচালের হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের পাদদেশে ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত আমাদের আট দফা দাবি না মানা হবে, ততদিন বুয়েটের সব একাডেমিক কার্যক্রম ও ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

আজ গণজমায়েত ও কালো পতাকা প্রদর্শন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবরার ফাহাদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর বারোটার দিকে টিএসসি চত্বরে গায়েবানা জানাজায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আয়োজন করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থীরা। তারা এ ঘটনায় বুয়েট প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। আর বিচারকার্যে কোনো অবহেলা লক্ষ্য করা গেলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, আবরার দেশের পক্ষে কথা বলে শহীদ হয়েছেন। জানাজা শেষে আববারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

জানাজা শেষে আবরারের প্রতীকী লাশের একটি মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ঢাবি বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ক্যাম্পাস, শাহবাগ ঘুরে এসে আবার রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশে ডাকসুর ভিপি আবরার হত্যার প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টায় টিএসসিতে অভিভাবক শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত এবং কালো পতাকা প্রদর্শনের কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, বারবার বলেছি, কিন্তু আমাদের কথা আমলে নেয়নি প্রশাসন। ছাত্রসমাজ বারবার নির্যাতিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এটি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছি। ছাত্রসমাজ রাজপথে এলে তড়িঘড়ি করে বিচার করা হয়। কিন্তু প্রতিবাদ থেকে সরে গেলে বিচার পাওয়া যায় না। হত্যাকারীদের আড়াল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফুটেজ দেখাতে চায়নি। ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এসে বাগ্বিত-া করে ভিডিও ফুটেজ নিয়েছে।

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা থেকে প্রতিবাদ করুন। ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবরার নিহত হয়েছে। আমরা ভারতের সঙ্গে সকল দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল চাই। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নিন্দা : বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গতকাল মঙ্গলবার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল ও যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে আমরা ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত। ফাহাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। এ হত্যাকাণ্ড নির্মম ও পৈশাচিক। আমরা আবরারের হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। জ্ঞানচর্চা ও বিতরণই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ। মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও পরমতসহিষ্ণুতা ব্যাহত হলে বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। আবরারের এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থীর চরম অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও চিন্তাচেতনার পরিপন্থী।

রাবিতে মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা : রাবি প্রতিনিধির পাঠানো খবরে বলা হয়, আবরার ফাহাদের হত্যার বিচার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। মহাসড়কে অবস্থানের সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাধিকবার ধস্তাধস্তি ও বাগ্বিত-া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সাড়ে বেলা ১১টায় প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে দুপুর সোয়া ১২টায় অবস্থান শেষ করেন।

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ : টাঙ্গাইল প্রতিনিধি গতকাল জানান, ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবিতে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

জাবিতেও উত্তাপ : সাভার প্রতিনিধি জানান, ফাহাদ হত্যার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়েও (জাবি)। গতকাল জাবি শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ডেইরি গেটও বেশকিছু সময় অবরোধ করে রাখেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন : রংপুর প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি নগরীর মডার্ন মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সবাই ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ জানান। এ সময় বক্তব্য রাখেন বেরোবি শিক্ষার্থী রিনা মুরমু, হাসান মাহমুদ, আলমগীর কবির, মিজানুর রহমান, রাব্বী ইসলাম, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

রংপুর, কারমাইকেল কলেজ : এদিকে কারমাইকেল কলেজে প্রতিষ্ঠানটির গেটসংলগ্ন লালবাগ চত্বরে সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে গতকাল প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ফাহাদের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন এবং বর্তমান রাজনীতি কলুষিত বলে আখ্যা দেন।

নোয়াখালী, যশোর, মানিকগঞ্জ, গফরগাঁও থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নোয়াখালী টাউন হল মোড়ে সকাল ১০টায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। নিষেধ সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে না যাওয়ায় লাঠিচার্জ করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে পুনরায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী যোগ দেন।

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে যশোর শহরে গতকাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টার দিকে সাধারণ ছাত্র পরিষদ যশোরের ব্যানারে প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি এমএম কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মানিকগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জেলা শাখা। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে গতকাল ময়মনসিংহের গফরগাঁও প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে গফরগাঁও সরকারি কলেজ, ইসলামিয়া সরকারি হাইস্কুলসহ বেশকিছু মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অংশ নেন।

নিজ গ্রামে চিরনিদ্রা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধির পাঠানো খবরে বলা হয়, হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসা ও শোকাবহ শ্রদ্ধায় কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে গতকাল সকালে আবরার ফাহাদকে দাফন করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ছয়টায় কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের আল-হেরা মসজিদ চত্বরে দ্বিতীয় এবং রায়ডাঙ্গায় তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, গত সোমবার রাতে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটে আবরার ফাহাদের প্রথম জানাজা হয়েছিল।

গতকাল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ফাহাদের লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। গ্রামের বাড়িতে শেষ জানাজায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক অংশ নেন। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো ঈদগাহ ময়দান ভরে যায়। জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কাছে ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ তার সন্তানের জন্য ক্ষমা চাইলে উপস্থিত মানুষজন বলেন, আপনার সন্তান শহীদ হয়েছে।

জানাজার পর রায়ডাঙ্গা গ্রামবাসী খুনিদের বিচার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে ঈদগাহ ময়দানের পাশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

advertisement