advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তোপের মুখে উপাচার্য

বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে রবিবার মধ্যরাতে লাশ মেলে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের। এ ঘটনায় গোটা দেশ কেঁপে উঠলেও দেখা মিলছিল না বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের। ফলে খুনিদের বিচারের পাশাপাশি উপাচার্যের উপস্থিতির

দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর প্রায় দুদিন পর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়টির অভিভাবক। কিন্তু শোকাহত ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কথার সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হলে তারা তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম নিজের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। এ সময় শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, তোমাদের দাবি সমর্থন করছি। আমরা নীতিগতভাবে সব দাবি মেনে নিচ্ছি। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে তাদের ৭ দফা দাবি পড়ে শুনিয়ে ঠিক কোন দাবি মানা হলো তা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে চলে যেতে চান। এত পরে কেন এলেন জানতে চাইলে ভিসি বলেন, আমি সারাদিন মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, মিটিং করেছি। এগুলো না করলে দাবিগুলোর সমাধান হবে কীভাবে। সব তো আমার হাতে নেই। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের আলাদা ডেকে নিয়ে কথা বলার প্রস্তাব দিলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগান দেন আন্দোলনরতরা। উপাচার্যের কথায় আশ্বস্ত হতে না পেরে তারা উপাচার্যকে তার কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। তখন ভিসির সঙ্গে থাকা বুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের ডিন ও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে বাইরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল।

এর আগে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ভিসিকে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন। কিন্তু তিনি না আসায় শিক্ষার্থীরা ভিসি ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এর পর তারা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থানের সময় এক শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্য কার্যালয়ের ভেতরে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। শিক্ষার্থীদের সামনে না আসায় তখন উপাচার্যের কার্যালয়ের ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এর পর শিক্ষার্থীরা সেখানে ‘হই হই রই রই ভিসি স্যার গেল কই’ বলে স্লোগান দেন। এর পরই উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে আসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, দাবির সঙ্গে আমি একমত। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের উপায় বের করা হচ্ছে। আমি কাজ করে যাচ্ছি। এ সময় এক শিক্ষার্থী জানতে চান, স্যার আপনি কী কাজ করছেন। তখন তিনি বলেন, তোমাদের এ ব্যাপারটি নিয়ে কাজ করছি। আমি রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করেছি।

গত সোমবারও উপাচার্য তার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে একটি সভায়ও অংশ নেন। তবে যেখানে হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে, সেই শেরেবাংলা হলে তিনি যাননি, এমনকি প্রকাশ্যেও দেখা যায়নি তাকে। তার প্রকাশ্যে না আসার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। এর আগে শিক্ষার্থীরা ভিসির কার্যালয়ে, একাডেমিক ভবনে, প্রশাসনিক ভবনে ও বুয়েটের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। তারা জানান, আংশিক কোনো দাবি মানা হবে না।

ফাহাদ হত্যার পর বুয়েট শিক্ষার্থীরা ৭ দফা দাবি জানিয়েছেন। এগুলো হলোÑ খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে তাদের আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে; দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বল্পতম সময়ে ফাহাদ হত্যা মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি, তা তাকে ক্যাম্পাসে এসে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ব্যাখ্যা করতে হবে। ছাত্রকল্যাণ শিক্ষককেও (ডিএসডব্লিউ) বিকাল ৫টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে; আবাসিক হলগুলোয় র‌্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। আহসানউল্লা হল ও সোহরাওয়ার্দী হলে ঘটা আগের ঘটনাগুলোয় জড়িত সবার ছাত্রত্ব ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে বাতিল করতে হবে; রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হওয়ায় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে; মামলার খরচ এবং আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

advertisement