advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ব্যাংকের ডলার যাচ্ছে কোথায়

হারুন-অর-রশিদ
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০১:২০
প্রতীকী ছবি
advertisement

ক্যাসিনোকাণ্ডের ঘটনায় কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ও ডলার উদ্ধার হচ্ছে। এ সময়ে ব্যাংক থেকে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে মার্কিনমুলুকের মুদ্রা ডলার। একদিকে আমদানি কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে রেমিট্যান্স। এতে ব্যাংকগুলোর ডলারের মজুদ বাড়ার কথা। কিন্তু এক মাসে মজুদ কমেছে সাড়ে ২০ শতাংশ। পর্যাপ্ত ডলার না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনতে বাধ্য হচ্ছে ব্যাংকগুলো। এদিকে ডলারের চাহিদা থাকায় দামও বাড়তে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সব ব্যাংক রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা অর্জন করতে পারে। তবে চাইলে বিপুল পরিমাণ ডলার নিজেদের কাছে রাখতে পারে না ব্যাংকগুলো। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা অনুসারে ডলার ধারণের সীমারেখা (ওপেন পজিশন লিমিট) নির্ধারণ করা আছে। এই সীমারেখা অনুসারে দেশের সব ব্যাংক সর্বমোট ২২৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার নিজেদের কাছে রাখতে পারে। ব্যাংকগুলোর কেনাবেচা শেষে নিজেদের সীমারেখার বাইরে গেলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা অন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে হয়। প্রতিটি ব্যাংকের লিমিট হচ্ছে তার মূলধনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডলার মজুদ ছিল ৮৯ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। চলতি মাসে শুরুতে যা ছিল ১১২ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। এক মাসের ব্যবধানে ডলারের মজুদ কমেছে ২০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকেই ডলারের মজুদ কমতে শুরু করে। আগস্ট শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে কিছুটা বেড়েছিল। ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে দুয়েক দিন বাদে প্রায় প্রতিদিনই ব্যাংকগুলোর মজুদ কমেছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকের ডলারের চাপ আগে থেকেই রয়েছে। রেমিট্যান্স কিছুটা বাড়ছে। কিন্তু রপ্তানি কমেছে। ফলে ডলারের মজুদ কমে গেছে। বড় প্রকল্পের জন্য আমদানির চাপও রয়েছে। সংকটের কারণে ডলারের দামও বাড়ছে।

এদিকে পর্যাপ্ত ডলার না থাকায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের পক্ষে আমদানির দায় মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনে দায় মেটানো হচ্ছে। দুই বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের আমদানি দায় মেটাতে ব্যাংকগুলো ২৩১ কোটি ডলার কিনেছে। এজন্য তাদের খরচ হয় ১৯ হাজার কোটি টাকা।

গত অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ব্যয় করে ১৩৪ কোটি ডলার কেনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। নতুন অর্থবছরেও ডলার কেনা অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডলার কিনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ধরনা দিচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অতিজরুরি না হলে কাউকে ডলার দেওয়া হচ্ছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ কোটি ৯০ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ব্যাংকগুলোর চাহিদা এর থেকে অন্তত ২০ গুণ বেশি।

এদিকে ডলার সংকট থাকায় খোলাবাজারে দাম বাড়ছে হু হু করে। খোলাবাজারে প্রতি ডলার ৮৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও খোলাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ছিল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। মাসের ব্যবধানে তা বেড়েছে প্রায় দেড় টাকা। নন ফিজিক্যাল ডলার (অ্যাকাউন্টভিত্তিক) কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত সোমবার বিক্রি করেছে ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সায়। ১ অক্টোবর এ দাম ছিল ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। জুলাই-আগস্টে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬৭৩ কোটি ডলার-যদিও রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় (এলসি খোলা) সাড়ে ৭ শতাংশ কমে হয়েছে ৪৬৮ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান বলেন, আমদানির বিল পরিশোধ বাড়ছে। অন্যদিকে রপ্তানি আয় সেই হারে বাড়ছে না। ফলে ব্যাংকগুলোর ডলার মজুদ কমছে। তবে বাড়া-কমা এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ডলারের দামবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম ১৫ পয়সা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব বাজারে পড়ছে।

তবে মজুদ ডলারের চেয়ে খোলাবাজারে নগদ ডলারের দাম বাড়ছে বেশি হারে। প্রতিদিনই এ ডলারের দাম বাড়ছে। কারণ দেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলছে। বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা দিয়ে ডলার কিনে রাখছে। ফলে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। যেহেতু ব্যাংক থেকে নগদ ডলার কেনায় নিয়মনীতি মানতে হয়। তাই খোলাবাজারের ডলারের চাহিদা বেশি; দামও বাড়তি।

advertisement