advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নির্যাতনের পর যুবককে খাওয়ানো হলো মলমূত্র

বরিশাল প্রতিনিধি
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০৭
advertisement

বরিশালের হিজলা উপজেলায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে আজম বেপারি নামে এক যুবককে নির্যাতনের পর মলমূত্র খাওয়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। গত ১ অক্টোবর উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের টুমচর গ্রামের এ ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য মাহাবুব শিকদার। তিনি স্থানীয় আবদুল খালেক সিকদারের ছেলে ও হরিনাথপুর লঞ্চ ঘাটের সুপারভাইজার। এরই মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাহাবুব শিকদারসহ স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবদুর

রশিদ এবং একই এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার আজম টুমচর গ্রামের মহিউদ্দিন বেপারির ছেলে। তিনি হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করেন। ঘটনার পর থেকেই লোকলজ্জায় এলাকা ছেড়েছেন আজম।

জানা যায়, হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব শিকদারের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুর রশিদ, মো. সোলায়মানসহ ৮ জন আজমকে নির্যাতন ও মলমূত্র খাওয়ানোর ঘটনায় অংশ নেন বলে স্থানীয়রা ভিডিও দেখে নিশ্চিত করেছেন। আর মেবাইল ফোনে মলমূত্র খাওয়ানোর ভিডিওটি ধারণ করেছেন মাহবুবের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল। এ ছাড়া পুরো ঘটনার নেপথ্যে থেকে ইন্ধন জুগিয়েছেন আজম বেপারির ব্যবসায়িক অংশীদার মো. জহির।

স্থানীয়রা জানান, জহির ও আজম দীর্ঘদিন একসঙ্গে ব্যবসা করেন। প্রথমদিকে তারা জ্বালানি তেল কিনে বিক্রি করতেন হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে। এর পর তারা জমির ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি এ ব্যবসায় তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। কিন্তু আজমকে ভাগ না দিয়ে জহির ওই টাকা একাই আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজম ব্যবসায় লাভের অংশ চাইলে জহির তাকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে কিছু দিন আগে আজমকে মারধর করে এলাকাছাড়া করেন জহির। সম্প্রতি আজম আবার এলাকায় ফিরে এলে জহির তাকে শায়েস্তা করার ঘোষণা দেন। এর জন্য জহির যুবলীগ সদস্য মাহবুব সিকদার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহারিয়ার বাদলের সঙ্গে ত্রিশ হাজার টাকা বিনিময়ে চুক্তি করেন। এর পর মাহবুব ও বাদল মিলে পরিকল্পনা করে গত ১ অক্টোবর আজমকে তার বাড়ি থেকে ডেকে স্থানীয় তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল তাদের আরও ৬-৭ সহযোগী। তারা আজমকে প্রথমেই হাত-পা বেঁধে রাস্তার ওপর ফেলে মারধর করে। এর পর আজমের বুকের ওপর একজন দাঁড়িয়ে অন্যরা হাত-পা চেপে ধরলে মাহবুব শিকদার একটি বদনাভর্তি মলমূত্র জোর করে তার মুখে ঢেলে দেয়। একপর্যায়ে আজম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেখানে ফেলে রেখে তারা চলে যান। গত সোমবার রাতে ওই ভিডিওটি অভিযুক্তদের একজন ফেসবুকে ছেড়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে তা ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে লজ্জায় আজম গ্রাম ছেড়ে চলে যান।

আজমের স্বজনদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তাই ভয়ে এতদিন তারা থানায় অভিযোগ দিতে সাহস পাননি। এ ছাড়া ঘটনার পর তারা আজমকে হুমকি দিয়ে বলে, মামলা করলে তাকে খুন করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে ভিডিও ভাইরাল হতেই স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। গতকাল দুপুরে নিজ নিজ বাসা থেকে আটক করা হয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুর রশিদ ও কবির হোসেনকে। প্রায় একই সময় ইউনিয়নের হিজলতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় যুবলীগ সদস্য মাহবুবকে।

হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান খালিদ জানান, অভিযুক্ত মাহবুব শিকদার তাদের সংগঠনের সদস্য। তবে আমাদের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুর রহমান জানান, টাকা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা দেখে তিনি আজমের বাবাকে খবর দিয়ে ঝামেলা মেটানোর জন্য বলেছিলেন। তবে মলমূত্র খাওয়ানো ও টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

হিজলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াস তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনা জেনেই স্থানীয় পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement