advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাবি আইন বিভাগের সভাপতি নিয়োগের জন্য নয়, টাকা নিয়েছিলাম ধার হিসেবে

রাবি প্রতিনিধি
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০৮
advertisement

‘চাকরি প্রত্যাশীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল ধার হিসেবে, নিয়োগের জন্য নয়। নিয়োগ বোর্ডের আগেই সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপউপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার অভিযোগের পর আত্মপক্ষ সমর্থনে এ কথা বলেন আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবদুল হান্নান। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ দাবি করেন তিনি। অধ্যাপক হান্নান এ সময় ধার হিসেবে নেওয়া টাকা ও তা পরিশোধের ব্যাংক রিসিট, অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টের ফটোকপি এবং চাকরিপ্রত্যাশী নুরুল হুদার সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও উপস্থাপন করেন।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যাপক হান্নানের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক হান্নান বলেন, ‘আমার দুই লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল। ওই সময় নুরুল হুদার কাছ থেকে সপ্তাহখানেকের জন্য সেই টাকা

ধার চাই। সে ৪ নভেম্বর নীলফামারীর সৈয়দপুর শাখা ইসলামী ব্যাংক থেকে রাজশাহী শাখা ইসলামী ব্যাংকের ডিসেন্ট ট্রেডার্সের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আমাকে দুই লাখ টাকা দেয়। এর পর গত ১২ নভেম্বর ব্যাংকের মাধ্যমেই তাকে টাকাটা ফেরত দিই। অথচ বিভাগের চাকরির নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় পরের দিন ১৩ নভেম্বর। আর তাতে কে নিয়োগ পাচ্ছেন, তা সিন্ডিকেটে পাস হয় ১৭ নভেম্বর।’

টাকা নেওয়া ও তা পরিশোধের মধ্যবর্তী সময়ে (গত বছরের ৯ নভেম্বর) নুরুল হুদার সঙ্গে অধ্যাপক হান্নানের ফোনে কথা হয়। ফোনালাপে কবে টাকা ফেরত পাবেন, তা জানতে চান হুদা। আর ধারের টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ডিসেন্ট ট্রেডার্সের নামে অ্যাকাউন্টটি যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমে এটি অধ্যাপক হান্নানের নামে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে মো. শফিকুল ইসলামের নাম যুক্ত করা হয়। যৌথ অ্যাকাউন্টটি মূলত রাবি সংলগ্ন মীর্জাপুর এলাকায় দুজনের নামে ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ ও অন্যান্য উৎস থেকে আসা টাকা লেনদেনের সুবিধার জন্য খোলা হয়েছিল বলে জানান অধ্যাপক হান্নান।

চলতি বছরের ১ অক্টোবর চাকরিপ্রত্যাশী নুরুল হুদার স্ত্রী সাদিয়ার সঙ্গে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানে সাদিয়া কত টাকা দেওয়ার জন্য রেডি আছেন, তা জানতে চান উপ-উপাচার্য। পরে জানা যায়, রাবির আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের কয়েকদিন আগের কথোপকথন এটি। গত ৩ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে চৌধুরী মো. জাকারিয়া দাবি করেন, ‘যে ফোনালাপ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে, তা একটি স্বার্থান্বেষী মহল আংশিকভাবে, খ-িতভাবে, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রকাশ করেছে। উল্টো আমি নিজেই নিয়োগ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম।’ এ সময় তিনি ‘ডিসেন্ট ট্রেডার্স’র নামে দুই লাখ টাকা জমার রিসিট, ছবি ও স্বাক্ষরসহ লিগ্যাল ব্যাংক ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে অভিযোগের তীর ঘোরান অধ্যাপক হান্নানের দিকে।

advertisement