advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সোনারগাঁওয়ে গার্মেন্টকর্মীকে তুলে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণ

আমাদের সময় ডেস্ক
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০৮
advertisement

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অটোরিকশা থেকে গার্মেন্টকর্মীকে তুলে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ময়মনসিংহের ভালুকা ও ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে দুই শিশু।

সোনারগাঁও : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় এক গার্মেন্টকর্মীকে সোমবার জোরপূর্বক তুলে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই তরুণী বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁও থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে তালতলা তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত হলেনÑ উপজেলার জামপুর ব্রাক্ষ্মণবাওগাঁ গ্রামের আবু সাঈদ, ইমরান মিয়া, রনি মিয়া, আবুল হোসেন, মাসুদ মিয়া। এ ছাড়া আরিফ ও জাহাঙ্গীর পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহারে বাদীর অভিযোগ, রূপগঞ্জ উপজেলার রবিন টেক্স গার্মেন্ট থেকে সোমবার ছুটি শেষে তার বাড়ি গাউছিয়ার উদ্দেশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। অটোতে আগে থেকেই জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজন বসা ছিলেন। পরে গাউছিয়া পৌঁছানোর পর গার্মেন্টকর্মী নেমে যাওয়ার জন্য চালককে থামাতে বললে জাহাঙ্গীর হোসেন তাকে বাধা দেন। এ সময় গার্মেন্টকর্মী চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলে তার মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দিয়ে সোনারগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় ব্রাহ্মণবাওগাঁ গ্রামের হালিম মিয়ার বাড়িতে নিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর জাহাঙ্গীর হোসেন, আবু সাঈদ, আরিফ হোসেন, ইমরান মিয়া, রনি মিয়া, আবুল হোসেন, মাসুদ মিয়া একের পর এক ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। পরে রাত ৩টায় বাড়ির মালিক হালিম কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর এ ঘটনা দেখে ধর্ষকদের মেয়েটিকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এতে ধর্ষকরা রাজি না হওয়ায় হালিম মিয়ার আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তালতলা তদন্তকেন্দ্রের পুলিশকে খবর দিলে ধর্ষকরা টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

তালতলা তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক আহসান উল্লাহ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ : যুব মহিলা লীগ নেত্রী নিজেই বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শরিফুর রহমান পারভেজের (৪৫) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নিজ বাসায় জায়গা দিয়ে সহযোগিতা করায় মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকার নুরু সেক্রেটারির ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জানাকে (৪৬) দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে।

মামলাসূত্রে জানা যায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নেত্রীর

সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে মিজিমিজি আবদুল আলী পুল এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শরিফুর রহমান পারভেজ। এতে ওই নারীনেত্রী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত পারভেজের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করার চেষ্টা চলছে।

ভালুকা : ময়মনসিংহের ভালুকায় ছয় বছরের এক শিশুকে শাক তুলে দেওয়ার নাম করে আল আমীন নামে এক লম্পট ধর্ষণ করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশকা গ্রামের প্লে শ্রেণির ছাত্রী তার প্রতিবেশী অপর এক মেয়ে ও সহপাঠীকে নিয়ে বাড়ির পাশে শাক তুলতে যায়। এ সময় আল আমীন তিন শিশুকে বেশি শাক তুলে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের কামাড়িয়াভিটা জঙ্গলে নিয়ে তিন শিশুকেই উলঙ্গ করে। প্রথমে একটি মেয়েকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের সময় শিশুটি জোরে চিৎকার শুরু করে। এ সময় আল আমীন তাদের ভয় দেখায় এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। শিশুরা বাড়িতে এসে ভয়ে কিছু বলেনি। বিকালে শরীরে নিম্নাংশে ব্যথা শুরু হলে সব ঘটনা তার পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে খুলে বলে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল জানান, আমি বিষয়টি ওসিকে জানিয়েছি। কোনো ইউপি সদস্য যদি এ জাতীয় মামলা নিষ্পত্তি করে দেয়, তা হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য আমি ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি।

বোয়ালমারী : ফরিদপুরের বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া গ্রামে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিশু জয়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গতকাল সে ধর্ষণের শিকার হয়। এ ব্যাপারে শিশুটির মা বাদী হয়ে একই গ্রামের প্রতিবেশী দাউদ শরীফের ছেলে শিফাত শরীফের (১৯) নামে বোয়ালমারী থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।

থানাসূত্রে জানা যায়, শিশুটি বাড়ির পাশে সহপাঠী চাচাতো বোনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসার সময় প্রতিবেশী শিফাত শরীফ তাকে পার্শ্ববর্তী ইউনুস শরীফের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়ি এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে।

advertisement