advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কঠোর শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন

৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০৯
advertisement

ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে শিবির সন্দেহে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। উদ্বেগের বিষয় হলো, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কেউ সরকারের সমালোচনা করলে, ভিন্নমত পোষণ করলে, এমনকি কেউ শিবির করলে তাকে হত্যা, অত্যাচার করার অধিকার ছাত্রলীগকে কে দিয়েছে? অথচ সারাদেশে এ রকম কাজ বহুবার করেছে তারা গত দশ-এগারো বছরে। গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, শেরেবাংলা হলে প্রায়ই শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হতেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত দু-তিন দিন আগে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ ব্যাচের এহতেশামুল আজিম নামে এক শিক্ষার্থীকে ফেসবুকের বিভিন্ন বিতর্কিত পেজে লাইক দেওয়ার অপরাধে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত এক মাসে বিভিন্ন অভিযোগ এনে ৮-১০ জন শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মকা- নিয়ে ক্ষুব্ধ। প্রকাশ্যে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অনুষ্ঠানে তাদের সতর্ক করেছেন। চাঁদাবাজি আর নির্মাণকাজ থেকে কমিশন দাবিসহ নানা অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্যাসিনো, জুয়া ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে যুবলীগ, কৃষক লীগসহ অন্য সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কিন্তু ছাত্রলীগ ও যুবলীগের এই বিতর্কিত কর্মকা- তাতে সাময়িক থামলেও বন্ধ হয়নি।

প্রশ্ন ওঠে, কারা ছাত্রলীগকে দিয়ে করাচ্ছে এসব? কাদের নির্দেশে চলে এখন ছাত্রলীগ? আবরার হত্যার বিচার অবশ্যই করতে হবে। হত্যাকারীদের বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। আর তা না হলে কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে বা দেশের পক্ষে বা দলের বিপক্ষে কিছু বললে ছাত্রলীগ তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার মতো সাহস বারবার দেখাবে। আমরা চাই কঠোর শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক।

advertisement