advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ লাখ টন আজ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

চাঁদপুর প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:১০
advertisement

ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষায় আজ ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ‘ইলিশ প্রজনন মৌসুম’। এ উপলক্ষে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জাল ফেলা ও ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। রাজশাহীর পদ্মা নদী ও আশপাশের এলাকাও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন ইলিশ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা আনিছুর রহমান।

ড. আনিছুর রহমান বলেন, প্রজনন মৌসুমে সব নদ-নদীতে ইলিশের নিরাপদ বিচরণ ও ডিম ছেড়ে নির্বিঘেœ ফিরে যাওয়া আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। তা হলেই আমরা কাক্সিক্ষত সফলতা পাব। গত বছর দেশে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। তাই আমরা আশা করছি, এ বছর যদি সম্মিলিতভাবে সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি তা হলে সোয়া ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হবে। এদিকে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলসহ চাঁদপুর জেলার মতলব (উত্তর) উপজেলার ষাটনল থেকে পার্শ^বর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায়ও মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা চলবে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন এসব এলাকায় ইলিশ আহরণ, মজুদ, ক্রয়, বিক্রয় ও সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। কেউ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার বিধান করেছে সরকার।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী জানান, ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী এলাকায় মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও পোস্টারিং করা হয়েছে। এর পরও অভিযান সফল করার জন্য মৎস্য বিভাগ ও জেলা টাস্কফোর্স ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে। সূত্র জানায়, জেলায় বর্তমানে ৫১ হাজার ১৯০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে নদীতে না নামার জন্য এরই মধ্যে তাদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ওই নির্দিষ্ট সময়ে সব জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

সদর উপজেলার আনন্দবাজার এলাকার জেলে মানিক প্রধানিয়া ও মো. ফজলু বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানবেন বলে তারা অঙ্গীকার করেছেন। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনের জন্য সরকারিভাবে তাদের যে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই এ সহায়তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। একই রকম কথা বলেন রাজশাহীর জেলেরাও।

advertisement