advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আস্থাহীনতায় শেয়ারবাজার

আবু আলী
৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৯ ০০:১০
advertisement

দেশের শেয়ারবাজারে আবার অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। টানা পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে এ অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে টানা এ দরপতনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কারসাজি ছাড়া বাজারের হঠাৎ পতনের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বর্তমানে বাজারে বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আবার নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ফলে সৃষ্টি হয়েছে ক্রেতার অভাব। একদিকে ক্রেতার অভাব, অন্যদিকে টানা পতনে আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা বেড়ে গেছে। এতে বাজারে টানা দরপতন চলছে।

মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের মালিক-কর্মকর্তাদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক ব্রোকারেজ হাউস তাদেরক কর্মীসংখ্যা কমিয়ে এনেছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকলে আরও সংকুচিত করবেন হাউসের পরিধি। এ বিষয়ে একজন শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস মালিক আমাদের সময়কে বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে টানা দরপতনে ন্যুব্জ দেশের শেয়ারবাজার। এর আগে তার অফিসের আকার ছিল ৫ হাজার স্কয়ার ফুট। সেটি কমিয়ে দেড় হাজারে নামিয়ে এনেছেন। আর দেড়শ কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে বর্তমানে ৫৫ জন রয়েছে। আগামীতে আরও কমানোর চিন্তা করছেন। তিনি বলেন, লেনদেনের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আয়ও কমে গেছে। ফলে কার্যক্রম সংকোচনের বিকল্প নেই।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাত মাস ধরে টানা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ কমাচ্ছেন। শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রি করছেন বেশি। এর প্রভাব দেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝেও দেখা গেছে। গত ২৭ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ৪৩০ পয়েন্ট। ৭ অক্টোবর তা কমে ৪ হাজার ৮৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর সূচক কমেছে ৫৩৬ পয়েন্ট। আর মূলধন কমেছে ৩১ হাজার কোটি টাকা। ২৭ জুন ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ কোটি টাকা। সেটি কমে ৩ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে আবু হানিফ নামের এক বিনিয়োগকারী অভিযোগ করে বলেন, দেশের শেয়ারবাজার আজ অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে বিএসইসি ও ডিএসইতে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত অভিভাবক নেই, যারা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখবেন। অবশ্য গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী গণমাধ্যমকে বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। বিএসইসির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে স্টক এক্সচেঞ্জে যোগ্য নেতৃত্ব দেখা যায়নি। হতভাগা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ আইপিওর ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। তারা কি ভুলে গেছে, লিফটের মধ্যেও আইপিও শেয়ার বিলিবণ্টন হয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে পরে কী হয়েছে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারের বড় সমস্যা হচ্ছে আস্থার সংকট, সুশাসনের অভাব ও অতিরিক্ত সরবরাহ। এগুলো সমাধানের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেই সরকারের।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, পুঁজিবাজারের যেসব বিনিয়োগকারী আছেন, তারা বাজারের ওপর আস্থা প্রতিনিয়ত হারিয়েছেন এবং হারাচ্ছেন। আলোচনা অনেক হয়; কিন্তু বিনিয়োগকারীরা হাতে কিছু পান না।

advertisement